মতিকণ্ঠ ডেস্ক
ওসামা বিন লাদেনের পর নতুন একজন নেতা এখন আল-কায়েদার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নতুন নেতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা আছে শীর্ষস্থানীয় এমন কয়েকজন নেতা হচ্ছেন আইমান আল-জাওয়াহিরি, আইফ আল-আদেল, সুলাইমান আবু গাইত, আবু হাফিজা, ফজুল আবদুল্লাহ মোহাম্মদ, ও ফজলুল হক আমিনী। নিম্নে এদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হল।
৫৯ বছর বয়সী মিসরীয় আইমান আল-জাওয়াহিরিকে ২০০৯ সালে আল-কায়েদার শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র। পারিবারিক পরিচয়ের দিক থেকে জাওয়াহিরি মিসরের প্রধান একটি মসজিদের ইমামের নাতি এবং ফার্মাকোলজি শিক্ষকের ছেলে। দলের প্রধান সংগঠক ও বিন লাদেনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা বলেও বিবেচনা করা হতো তাঁকে। বিশেষজ্ঞরা জাওয়াহিরিকে আল-কায়েদার ‘আসল মস্তিষ্ক’ বলে উল্লেখ করেন।
সাইফ আল-আদেল আল-কায়েদার সামরিক কমিটির নেতা তিনি। মিসরীয় বংশোদ্ভূত এই নেতা সোমালিয়ার রাস কামবোনিতে আল-কায়েদার একটি প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন এবং সোমালীয় জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেন বলে ধারণা করা হয়। আদেল ২০০১ সাল থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় আছেন এবং তাঁর অবস্থানস্থলের তথ্যের বিনিময়ে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা আছে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে তিনি ইরানে আছেন।
৪৫ বছর বয়সী কুয়েতি বংশোদ্ভুত সুলাইমান আবু গাইতকে আল-কায়েদার জ্যেষ্ঠ নেতা এবং আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র বলে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে গুরুত্ব পেতে শুরু করেন তিনি। সাদ্দাম হোসেনের নিন্দা জানিয়ে এবং পরে তার দেশে শরিয়া আইন অনুসরণের দাবি জানিয়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। বারবার ফতোয়া দেওয়ার কারণে তাঁকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং মসজিদের ইমামের পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০০০ সালে কুয়েত থেকে আফগানিস্তান চলে আসেন এবং আল-কায়েদায় যোগ দেন।
মরোক্কোর সামরিক বাহিনীর সাবেক মনোচিকিৎসক আবু হাফিজাকে আল-কায়েদার একজন নীতিনির্ধারক নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট ডেবকা ডটকমের তথ্যানুযায়ী, আবু হাফিজা ২০০৪ সালের মাদ্রিদ হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
৩৬ বছর বয়সী আল-কায়েদা নেতা ফজুল আবদুল্লাহ মোহাম্মদকে দলটির পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান বলে সন্দেহ করা হয়। ১৯৯৮ সালে সোমালিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৭ সালে সোমালিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় তিনি নিহত হন বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে ২০০৯ সালে সোমালিয়ার একটি ওয়েবসাইটে তাঁকে জীবিত বলে উল্লেখ করা হয়।

আল-কায়েদার সম্ভাব্য নেতা
মুফতি ফজলুল হক আমিনী ইসলামী আইন বাস্তবায়ন ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান। প্রস্তাবিত নারী নীতির বিরোধিতা ও শরিয়া আইন বাস্তবায়নের দাবিতে এক হাতে পবিত্র কোরআন শরীফ ও অন্য হাতে লাঠি ধরিয়ে শিশুদের সহিংস আন্দোলনে ঠেলে দিয়ে তিনি ইসলামী বিশ্বের নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। গত মে ২০০৯ সালে হামলা ও বোমাবাজির মামলায় মুফতি আমিনীকে কারাগারে নেয়া হয়েছিল, কিন্তু কারাগার তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। উপরোল্লিখিত মানুষদের মধ্যে মুফতি আমিনীই একমাত্র মানুষ যার নাম এখনো এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড টেরোরিস্টের তালিকায় এখনো দেখা যায়নি। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে তিনিই হবেন আল-কায়েদার পরবর্তী নেতা।
মুফতি ফজলুল হক আমিনীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতিকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি আল-কায়েদার নাম পরিবর্তন করে আল-কোরআন করবেন। নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতিতে তিনিও যোগ দিতে চান কেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন ও ইসলামী ঐক্যজোটের শিশু-কিশোর নেতাকর্মীরা মক্তবেই কায়েদা-আমপারার কাজ সেরে ফেলেছে। রাজপথে কায়েদা-আমপারা নিয়ে নামার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে রাজপথে নেমেও খুব একটা সুবিধা করা যাচ্ছে না।
আল-কায়েদার নাম পরিবর্তন করে আল-কোরআন রাখলে তা ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন শরীফ অবমাননার পর্যায়ে পড়বে কিনা তা জানতে চাইলে আমিনী বলেন, মুসলমানেরা আমাত্তে বেশি বুজে?