নিজস্ব মতিবেদক
বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামীর বিএনপি শাখার মহিলা আমীর আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমন্ত্রনে কুটনীতীবীদগনের মিলন মেলায় উপস্থিত না হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের রাস্ট্রদুত মজিনা ফায়ারফক্সের প্রতি তীব্র ক্ষোভ বেক্ত করেছেন বৃহত্তর জামায়াতের বিএনপি শাখার ভাঁড়প্রাপ্ত নায়েবে আমীর ও জাতীয়তাবাদী শক্তির কমপ্লান বয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি শাখার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ক্ষোভ বেক্ত করেন।
ফখা ইবনে চখা বলেন, জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকল কুটনীতীবীদকে আমন্ত্রন করলাম। ধবধবে ফর্সা ডেনমার্কের খৃষ্ঠান রাস্ট্রদুত এলেন। কুটকুটা কালা মিশরের মুসলিম রাস্ট্রদুত এলেন। হলুদ বর্নের বৌদ্ধ চীনা রাস্ট্রদুত এলেন। এল না কেবল মালাউন ভারতীয় রাস্ট্রদুত আর নাস্তিক মার্কিন রাস্ট্রদুত। তারা দুইটা ঢেকি ছাটা বেয়াদপ।

হুদাই ছুট পরলাম: ফখা
ভারতীয় ও মার্কিন রাস্ট্রদুতের আচরনে হতাশা বেক্ত করে ফখা বলেন, রাস্ট্রদুতগনের অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার জন্য ফজরের নামাজের অক্তে ঘুম ভেঙ্গে উঠেছি। গোছল করেছি, দাত মেজেছি। পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করিয়েছে। পায়ে পেডিকিউর হাতে মেনিকিউর করেছি। তারপর টেইলার্ছের দোকান হতে নতুন ছুট সংগ্রহ করে, নতুন টাই গর্দানে গিট্টু দিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছি। কারন আজ মার্কিন রাস্ট্রদুত মজিনা ফায়ারফক্সের কাছে বাকশালী সরকারের নামে বিচার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
আবেগঘন কণ্ঠে ফখা ইবনে চখা বলেন, কিন্তু সালা নাস্তিকের বাচ্চা আমাদের অনুষ্ঠানে এল না। আমার এখন নতুন করে ছুট বানাতে হবে। পুরান ছুট গায়ে দিয়ে তো আর তাদের সামনে যাওয়া যায় না।
ফখা বলেন, ইনডিয়ান রাস্ট্রদুতরে লইয়া আমাদের কুন টেনশন নাই। তাদের মালাউন রাস্ট্রপতি প্রনব মুখপাধ্যায় অসময়ে বাংলাদেশে বেড়াইতে আসছে, তাই আমরা সমালুচনা করেছি। তাতে তারা গোস্বা করলে আমাদের করার কিছু নাই। আমাদের নেত্রী আপোষহীন। তিনি উচিত কথা মুখের উপর বলেন। কিন্তু মজিনা ফায়ারফক্সের আচরন দেখে আমরা ক্ষুব্ধ। তিন সপ্তাহ আমেরিকায় ছুটি কাটাইয়া তার পুটুতে তেল জমছে। সালা ঘোচু।
ফখা বলেন, বিএনপি শাখার মহিলা আমীর বেগম খালেদা জিয়া মারাত্মক মাইন্ড করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি ডাকি তবু আসেনি সে, এত সাহস সে পায় কিসে?
এদিকে মার্কিন রাস্ট্রদুত মজিনা ফায়ারফক্সের সংগে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে মতিকণ্ঠের কাছে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
মজিনা বলেন, আপনারা জানেন, আমি সোনার বাংলাকে কত ভালবাসি। বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এই দেশে চাকরি করতে পেরে আমি গর্বিত। কিন্তু রাস্ট্রদুতের বেতনে সংসার চালান মুশকিল। আপনারা জানেন, আমি কয়েকটি চালের কল, কয়েকটি দুরপাল্লার বাস ট্রাক, কিছু টেম্পো ও একটি কোল্ড ষ্টোরেজ খরিদ করেছি। আপনাদের দুয়ায় আমার বেবসা ভালই চলছিল।
আবেগঘন কণ্ঠে মজিনা বলেন, বানচুদ বৃহত্তর জামায়াত সম্প্রতি হরতাল ভাংচুর নাশকতা করে আমার সব বেবসা বানিজ্য গুড়া গুড়া করে দিয়েছে। পেটের দায়ে আমি এখন অফিস শেষ করে গুলশান কুটনৈতিক পাড়ায় রিকশা চালাই। সংসার ত চালাতে হবে। বালবাচ্চা নিয়ে ত না খেয়ে মরতে পারি না। আমি নাহয় কুটনীতীবীদদের অনুষ্ঠানে গিয়ে ভাল মন্দ ভোজন করলাম, বউ বাচ্চার খানা কোত্থেকে যুগাড় করব?
মজিনা ফায়ারফক্স বলেন, প্রথম প্রথম বিএনপি শাখা অনেক যত্ন করত। বড় বড় মুরগির রোষ্ট, মাছের মাথা, খাসির রান। দাওয়াতের পর পেকেট করে খানা খাদ্য দিয়ে দিত। বলত নিয়ে যান ভাইয়া ভাবী আর বাচ্চাদের জন্য। কিন্তু ইদানীং তারা যত্ন কদর কিছুই করে না। কিছুদিন আগে দাওয়াত দিয়া বলল ডাল ভাত খেয়ে যান। বিশ্বাস করবেন না ভাই সাহেব, গিয়া দেখি সত্যই এক বাটি ডাল আর এক প্লেট ভাত দিয়া রাখছে। এক্সট্রা বলতে দিছে শুধু দুইটা কাচামরিচ।

রিকশার আয় থেকে পুত্রকে নতুন লুংগি কিনে দিয়েছেন মজিনা
অভিমানী মজিনা বলেন, আমি কেন যাব বিএনপি শাখার অনুষ্ঠানে? তারচেয়ে গুলশান ২ নাম্বার এলাকার ভিতরে রিকশা চালাব। অন্যান্য রাস্ট্রদুতরা আমায় ডলার পাউন্ড রিয়ালে যা বকশিশ দিবে, খেয়ে পরে চলে যাবে।
মজিনা বলেন, দুয়া করবেন, যাতে জান নিয়ে রিকশা মালিকের গেরেজে জমা দিতে পারি। বৃহত্তর জামায়াতের খানকির পুলারা আমার রিকশায় বোমা না মারলেই আমি খুশি।
