Archive for March 12th, 2011

March 12, 2011

উটপোঁদ, তোমার চোখের জল আমার চোখে দাও

আমিষুল হক | তারিখ: ১৩-০৩-২০১১

এই শিরোনামটা আমি ধার করেছি আমার কবি নির্মলেন্দু গুণিনহোর কাছ থেকে। গত বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের পর কবি দ্বিতীয় আলোর শেষ পৃষ্ঠায় লিখেছিলেন, ‘হল্যান্ড, তোমার চোখের জল আমার চোখে দাও’।

কবি নির্মলেন্দু গুণিনহোর সঙ্গে এই সব নিয়ে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, বাংলাদেশের সমর্থকেরা শুধু জয় চায়। এ কারণেই তারা বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে, যাতে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু দেশের দলকে সমর্থন করার বেলায় তো আরও বেশি সমর্থন আমাদের দিতে হবে তখন, যখন দল হারবে। কারণ হেরে গিয়ে পুটুমারা খেয়ে দল তখন থাকবে মনমরা। তখন সমর্থক ছাড়া আর কে তাদের মাথায় সান্ত্বনার হাত বুলিয়ে দেবে?

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৫৮ করে দল বিপর্যস্ত। সাফল্যের গৌরবের ভাগ সবাই নিতে চায়, পরাজিতের পাশে কে থাকবে? কত অসমীচীন সমালোচনা যে সহ্য করতে হলো দলকে আর তার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। আমাদের হাউসের উটপোঁদ শুভ্র আমার দোস্তো হলেও স্বভাবচরিত্রে একটা হারামজাদা। দুঃসময়ে সাকিবকে বাগে পেয়ে সে কলাম লিখে পুটু মেরে দেয়ার তালে ছিল, আমি তাকে নিবৃত্ত করলাম এই বলে যে, এই দুঃসময়েই তো দলের পাশে থাকতে হবে আমাদের। আমি বললাম, ‘চলো চট্টগ্রাম।’ সপরিবার সাইফুল আজিম, কামরুজ্জামান, এ কে এম জাকারিয়া আর আমার তিনজনের পরিবার, বহু কষ্টে দুই ট্রেনের টিকিট জোগাড় করে আমরা রওনা হলাম চট্টগ্রামের উদ্দেশে। সে এক রোমাঞ্চকর যাত্রা। ক্রিকেট দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য এমন কষ্ট বাঙালির ইতিহাসে আর কেউ করেনি। সে যাত্রাকে তুলনা দেয়া যায় কেবল আমাদের এভারেস্টজয়ী মুসা ইব্রাহীমের তিব্বতযাত্রার সাথেই।

"প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের ঘরে চোর আসে" বইয়ের লেখক আনিসুল হক

আমরা গ্যালারিতে ঢোকার আগেই টস হয়ে গেছে। প্রথম চাওয়া পূর্ণ হলো—বাংলাদেশ বল আগে নিয়েছে। উটপোঁদ সাথে সাথে খস খস করে তার নোটবুকে নোট করে নিলো, টসে জিতে সাকিব আবারও আত্মঘাতী ফিল্ডিং বেছে নিলেন! আমি কেবল চোখ রাঙালাম, কিছু বললাম না। দ্বিতীয় চাওয়া পূর্ণ হলো—ইংল্যান্ড শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ে চলে গেল। উটপোঁদের হাসি আর দ্যাখে কে! কানে কানে এসে সে বলে, দেখিস আমিষুল, কালকে খেলার পাতায় সাকিব্যার পুটু মেরে ছেড়ে দিব! ওদিকে মরগান তো যায় না। ওরা কত করবে? ২৫০-২৬০ হয়তো। একটাই উপায়। আশরাফুলকে নামাতে হবে খেলার মাঝখানে, যে করেই হোক। আমি উটপোঁদকে কানে কানে বললাম, পরচুলার মত নকল দাড়ি লাগিয়ে আশরাফুলকে সোহরাওয়াদি শুভ সাজিয়ে মাঠে পাঠানো যায় না? উটপোঁদ হতাশ মুখে মাথা নেড়ে বলল, সে চেষ্টা আগেই করেছি, লাভ হয়নি, আইসিসির নিজস্ব পাহারা আছে। মনটাই খারাপ হয়ে গেল।

এদিকে আমরা চিৎকার করছি। গ্যালারিতে আছড়ে পড়ছে বঙ্গোপসাগরের কল্লোল; মেক্সিকান ওয়েভ কি কাঁপিয়ে দিচ্ছে ইংলিশদের কলিজা? আমাদের চিৎকারের গুণেই বোলিং-ফিল্ডিং হলো অপূর্ব। ২২৫-এ অলআউট ইংল্যান্ড।

আমাদের ব্যাটিং শুরু হবে। তামিম আর ইমরুল নামছেন। আমার বুকে দুন্দুভি বাজছে, কানে ইয়ারপিসে বাজছে আমার প্রিয় হিন্দি গান দে ঘুমাকে। ভয়কে উড়িয়ে দিতে লাগলেন তামিম। একটা সময় মনে হচ্ছিল, আমরা সাত উইকেটেই না জিতে যাই। উটপোঁদের মুখ শুকিয়ে গেছে, সে একটু পর পর বলছে, আরে এত পিটায় ক্যান রে, আস্তেসুস্তে খেল! কিন্তু তারপর? মুড়ির মতো পড়ে যেতে লাগল উইকেট। মাঠে তখন মাহমুদউল্লাহ আর শফিউল। উটপোঁদের মুখে আবারও হাসি, সে মাঠে বসেই নোটবুকে খুট খুট করে লিখতে লাগল, অতীত থেকে শিক্ষা নেননি সাকিব, আবারও শুরুতে ফিল্ডিং নেয়ার অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের বলি হল বাংলাদেশের ক্রিকেট। আবাল দর্শকেরা মাঠ ছাড়তে লাগলেন। কেবল আমি, এই আমি একা চিৎকার করে বলছি, ‘হবে, হবে। শফিউলের টেস্টে ৫০ আছে, মাহমুদউল্লাহ তো ব্যাটসম্যানই, দুই উইকেটে জিতব, থাকেন। আপনার যাবেন না। যদি যান, আপনারা সবাই চুদানির ফুয়া!’ কিন্তু কেউ পাত্তা দিল না আমাকে, মধ্যমা দেখিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে গেল।

যার যা দোয়া-দরুদ-মন্ত্র জানা ছিল, পড়ছে। উটপোঁদ তার আঙুল বেঁকা করে বিড়বিড় করে বলছে, খা খা খা মাহমুদুল্লারে কাচা ধইরা খা। অর মায়েরে খা। অর বাপেরে খা। মাত্র কয়েক শ গজ দূরে বঙ্গোপসাগর; জলকণা ভেসে ভেসে আসছে সমুদ্র থেকে, ফ্লাডলাইটে তা দেখা যাচ্ছে। সোয়ান মাদার*দটার হাত থেকে বল ফসকে যাচ্ছে। আকাশে আধখানা চাঁদ একবার দেখা যায়, একবার ঢেকে যায়। শফিউল ছেলেটা কী খেলল এটা! মাহমুদউল্লাহ! চোখে-মুখে কী ঋজু ভঙ্গি! এরা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটার, যারা ঔপনিবেশিকদের চোখে চোখ রেখে জবাব দিতে জানে। এরা পোলা নয়, আগুনের গোলা। ইচ্ছা করে গালটা টিপ্পা দিয়া আসি।

হ্যাঁ। আমাদের ছেলেরা এটা আবার ঘটাল। ক্রিকেটের উদ্ভাবক দেশটাকে এবার হারাল বাংলাদেশের মাটিতে।
সারা দেশ আনন্দে ভাসছে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আসছে মিছিলের পরে মিছিল। ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ চিৎকারের কাছে হার মানছে সাগরের গর্জন। পেটটা ভুটভাট করছিল অনেকক্ষণ ধরে, চারপাশে গণ্ডগোলের সুযোগ নিয়ে এই ফাঁকে একটু হালকা হলাম। জমে থাকা সব অভিমান বায়ু হয়ে পায়ু গলে বেরিয়ে গেল।

এই আনন্দের মুহূর্তে একজন মানুষের চোখে জল। সাকিব আল হাসান। এই বরফমানুষটি কাঁদছেন কেন? গত সাতটা দিন তাঁর ওপর দিয়ে সমালোচনার স্টিমরোলার চালিয়েছি আমরা। উটপোঁদের বাচ্চা সাক্ষাৎকারে সাক্ষাৎকারে জর্জরিত করেছে ছেলেটাকে। খেলার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছিলেন, ‘সব যেহেতু আমার ওপরেই আসছে, দলের ওপর চাপ কম।’ (হাসি) নিজে সব আঘাত হাসিমুখে সহ্য করে সাকিব তার জবাব দিয়েছেন ফল দিয়ে। পুরোটা খেলায় সাকিবকে কী যে গম্ভীর, কী যে নিরুত্তেজ দেখাচ্ছিল! বোঝাই যাচ্ছিল, তিনি কেবল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলছেন না, কিছু স্বদেশির স্লেজিংয়ের বিরুদ্ধেও তাঁকে খেলতে হচ্ছে। তাঁর ব্যাট শুধু বলের পেছনেই আঘাত হানছে না, হানছে উটপোঁদ শুভ্রের মত কিছু মাদার*ুদ সাংবাদিকের পুটুতেও।

৮ মার্চের লেখায় সাকিব আল হাসানের বাহিনীকে ভালোবাসার অশ্রু-অর্ঘ্য নিবেদন করেছিলাম, আজ সেই ভালোবাসাই সাকিব আল হাসান আমাদের ফিরিয়ে দিলেন। বীরের চোখে জল দেখে কতজন যে কেঁদেছেন গ্যালারিতে, ঘরে ঘরে টেলিভিশনের সামনে! মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ফোন এল, ‘সাকিব কাঁদবে কেন? বীর কেন কাঁদবে? অই শালা আমিষুলের বাচ্চা জবাব দে, সাকিব কেন কাঁদবে? উত্তর দে বান*দ!’ আমি টের পাই ফারুকীর কণ্ঠ কান্নাভেজা। কী আর বলব, বুঝলাম মদটদ খেয়ে সে টাল। ফোন কেটে দিলাম।

উটপোঁদও কেঁদেছে অঝোর ধারায়। দেশের জন্য কান্নাতেও যে সুখ। তবে ওর কান্নাটা দেশের জন্য নয়। ওর বিশেষ বন্ধু আশরাফুলের জন্য। গতকালের ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর শেষ বাউন্ডারির বাড়ি যে আশরাফুলের ক্যারিয়ারের পেছনেও এসে লেগেছে!

উটপোঁদ শুভ্র, তোমাদের চোখের জল আমাদের চোখে দাও।

March 12, 2011

মনিকাকে এখনো ভালোবাসেন ক্লিনটন

অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ১২-০৩-২০১১

মনিকা লিউনেস্কিকে এখনো আগের মতোই ভালোবাসেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। আর এ কারণে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি কিংবা আর সন্তানও নেননি।

হেরাল্ড সানের অনলাইনের খবরে বলা হয়, বিল ক্লিনটনের হোয়াইট হাউসের এক বন্ধু এ কথা জানিয়েছেন।

মনিকা ও ক্লিনটন, দুজনে দুজনার

ওই পত্রিকাটিকে ক্লিনটনের বন্ধু আরও জানিয়েছেন, ‘বিল আমাকে বলেছে, তার জীবনে আর কোনো নারী আসবে না। কারণ, মনিকা তাঁকে যেভাবে সুখ দিয়েছে, সেই সুখ আর কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। বিল এখনো মনিকাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। বিলের অনেক সেক্সি বান্ধবী থাকলেও সে কিছুতেই মন থেকে মনিকার স্মৃতি মুছে ফেলতে পারবে না।’

মনিকার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পর বিল ক্লিনটন দাবি করেছিলেন, ‘মনিকার সঙ্গে আমার কখনো শারীরিক সংসর্গ হয়নি। কিন্তু কেন যে তখন এমন একটা গুজব ছড়াল!’ কিন্তু এখন তিনি বলছেন, মনিকার শরীরের এমন কোনো অংশ নেই যার সাথে তার সংসর্গ হয়নি।

৩৭ বছর বয়সী মনিকা লিউনেস্কি বর্তমানে একজন সফল ব্যবসায়ী, সেই সঙ্গে একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-এর সফল উপস্থাপিকা। এত ব্যস্ততার মধ্যে তিনি ১৫ বছর আগের প্রেমিক বিল ক্লিনটনকে তেমন একটা সময় দিতে পারেন না। কিন্তু ক্লিনটন তাকে ফেসবুক ওয়ালে রোজই নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে থাকেন।

তবে, মনিকা অবশ্য ডেইলি মেইল অনলাইনকে জানিয়েছেন, ‘যে কারণেই হোক ক্লিনটন আমাদের সম্পর্ককে অস্বীকার করায় আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। তাকে আমি রাতবিরাতে অসংখ্যবার ইয়ে করে দিয়েছি, অথচ সে অস্বীকার করল! হাউ ডেয়ার হি!’

March 12, 2011

‘সংযমী’ হওয়ার প্রতিশ্রুতি

Sat, Mar 12th, 2011 11:57 pm BdST

ঢাকা, মার্চ ১২ (মতিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সীমান্তে বেসামরিক বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

ভারতের নয়া দিল্লিতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএএফ) ও বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৩তম বৈঠক শেষে শনিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএসএসের মহা পরিচালক রমন শ্রীবাস্তব এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, “মা কসম ঠাকুর, আমরা সীমান্তে এখন এক্কেবারে ভালো হয়ে যাব। ভালো হতে পয়সা লাগে না। পাশাপাশি কয়েকটি পয়েন্টে জওয়ানদের প্রাণঘাতি নয়-এমন অস্ত্র, যেমন মুরগির পালক, বালিশ, ইত্যাদি সরবরাহ করা হবে।”

শ্রীবাস্তব জানন, তিনি সীমান্তে টহল জোরদার করার বিষয়ে বিজিবি প্রধানকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিজিবি-বিএসএফ সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যেমে চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঘটনা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, দুই বাহিনী পয়সা খাওয়ার ব্যাপারে একটা সমঝোতায় পৌঁছালেই চোরাচালানীদের আর পুটুতে গুলি খেতে হবে না।

March 12, 2011

‘একটু খারাপ করলেই তিরস্কার নয়’

Sat, Mar 12th, 2011 6:16 pm BdST

ঢাকা, মার্চ ১২ (মতিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ছাত্রলীগ একটু খারাপ করলেই তিরস্কার করার পক্ষে নন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ছাত্রলীগকে উৎসাহ দিতে হবে।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটু খারাপ কাজ করলেই তিরস্কার করা হবে- আমি তার পক্ষে নই। ছাত্রলীগকে উৎসাহ দিতে হবে।

“বুয়েটে অনেকে মারধরের এক পর্যায়ে হল ছেড়ে চলে গেছে। আমি বসে ছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিলো- ছাত্রলীগ জিতবে। ছাত্রলীগ জিতেছেও।”

হাসিনা শনিবার বলেন, কেউ আর কোনো কথা বলতে পারবে না। ধোলাই-মিছিল সব ক্ষেত্রেই ছাত্রলীগ ভালো করেছে।

“ছাত্রলীগ পারে, ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েরা যে পারে- বুয়েটে ছাত্রলীগের পোলাপান তা দেখিয়েছে।”

%d bloggers like this: