Archive for March 15th, 2011

March 15, 2011

দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন বিদেশী কূটনীতিকরা

নিজস্ব মতিবেদক

ঢাকায় প্রভাবশালী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশে কূটনৈতিক মিশনের প্রধান (রাষ্ট্রদূত) পদে রদবদল হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (ইউএসএআইডি) মিশন ডিরেক্টর পদেও পরিবর্তন আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জেমস এফ মরিয়ার্টি, ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্টিফেন ইভান্স ও ইউএসএআইডির মিশন ডিরেক্টর ডেনিশ রোলিন্সের ঢাকায় দায়িত্ব পালনের সময়সীমা শেষ হওয়ায় কারণে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুনরা তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর মধ্যে নতুন ব্রিটিশ হাইকমিশনার হিসেবে রবার্ট উইনিংটন গিবসনের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে।

মতিকণ্ঠের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকায় নিযুক্ত এসব কূটনীতিক ও আমলারা বাংলাদেশে চাকরি করতে এসে বিভিন্ন দুর্নীতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে তাদের গোপনে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত মার্কিন কোনো রাষ্ট্রদূত তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে পাঁচ বছরে উন্নীত করা হলেও মরিয়ার্টির ক্ষেত্রে বাড়ছে না। তাই আগামী এপ্রিল মাসেই তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

মতিকণ্ঠের নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মরিয়ার্টি নানা আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বেনামে তিনি ঢাকায় প্রায় একশোটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বেনামে তিনি ঢাকা-রামগতি রুটে একাধিক বাস, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দুটি হাস্কিং মিল, বরগুনায় বাইশটি মাছধরা ট্রলার ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিনটি স মিল কিনেছেন বলে মতিকণ্ঠের প্রতিবেদকের কাছে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কূটনীতিক।

সূত্র আরো জানায়, নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কে হবেন তা নিয়োগ করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

ইয়াবা সম্রাট

অন্যদিকে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিনার স্টিফেন ইভান্স তাঁর দায়িত্বে যোগ দেন ২০০৮ সালের ৬ জুলাই। আগামী জুলাই মাসে তাঁর স্থলে দায়িত্ব নেবেন বর্তমানে পাকিস্তানের করাচিতে ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রবার্ট উইনিংসন গিবসন। তিনি গত বিএনপি আমলে ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ঢাকায় ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গিবসন ও ইভান্স উভয়েই বাড়ির বেসমেন্টে ইয়াবা উৎপাদনের কারখানা পরিচালনা করেন বলে মতিকণ্ঠের প্রতিবেদনে জানা গেছে। তবে গিবসন ইভান্সের তুলনায় বেশি চাল্লু বলে তিনি ধরা পড়েননি। পাকিস্তানে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বৃটিশ কূটনীতিক।

এদিকে ঢাকায় ইউএসএআইডির মিশন ডিরেক্টর ডেনিস রোলিন্স তাঁর বর্তমান দায়িত্বে যোগ দেন ২০০৭ সালের ৯ আগস্ট। গতকাল ঢাকায় বার্ষিক জেন্ডার ও ডেভেলপমেন্ট মেলায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ওই বার্ষিক মেলায় হয়তো এটিই তাঁর শেষ অংশগ্রহণ।’

মতিকণ্ঠের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোলিন্স কুমিল্লার দাউদকান্দি ও ঝিনাইদহের শৈলকূপায় দুটি বিবাহ করেছেন। তার মার্কিন স্ত্রী বাংলাদেশে কালেভদ্রে আসেন। রোলিন্স সাতক্ষীরায় একটি ডিজেল চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলাদেশী চোরাচালানী। এ ছাড়া দুলদুল ও সালসাবিল পরিবহনেও তাঁর শেয়ার আছে বলে ধারণা করছেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

এদিকে চলতি মার্চ মাসের শুরুতেই ঢাকায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম আনা। তিনি যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি ও ফটকামিতে জড়িয়ে না পড়েন, সেজন্য ডিএমপি কমিশনারের কাছে তাকে চোখে চোখে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। তার হাতের লেখা খারাপ বলে তার নামটি পরিষ্কার জানা যায়নি।

ক্রাউলির পদত্যাগ

কি পুলাডা ইন্দুরে খাইল রে

বাংলাদেশের আইনের সমালোচনা করার জেরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপত্র পি জে ক্রাউলি পদত্যাগ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত রবিবার বিকেলে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ক্রাউলি ইউনূস প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সাথে বেশি পার্ট নিতে গিয়েছিলেন বলে আজ তার এই হাল। ওয়াশিংটন পোস্ট, শিকাগো সানটাইকমসসহ কয়েকটি পত্রিকা এ কথা জানিয়েছে।

March 15, 2011

পর্যটকদের জাগাতে মমতাজ

এবার গান শুনিয়ে পর্যটকদের জাগাতে এগিয়ে এসেছেন শিল্পী মমতাজ। এ উদ্দেশ্যেই আগামী ৮ এপ্রিল কুয়াকাটার রাখাইন মহিলা মার্কেট মাঠে মমতাজের একক কনসার্টের আয়োজন করেছে বিড়ি মিডিয়া লিমিটেড এবং সিগারেট বার্তা। এই অনুষ্ঠানে তিনি বিখ্যাত “ঘুম ভাঙ্গাইয়া গেলো রে মরার কোকিলে” গানটি পরিবেশন করে পর্যটকদের ঘুম থেকে জাগাবেন।

চিরল দাতের হাসি দিয়ে পাগল করেন দেশ

কক্সবাজারের মতো কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ইদানিং অসংখ্য পর্যটককে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। সুনামি ঘূর্ণিঝড়ের সময় এসব পর্যটকেরা ভেসে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ভাসিতে দিতে পারেন। তাদেরকে ঘুম থেকে তুলতে তাই এ উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। এই কনসার্ট সম্পর্কে শিল্পী মমতাজ বলেন, নান্টু ঘটক বলা সত্ত্বেও আশরাফুলের মতো আগুনের গোলা বাংলাদেশ টিমে না থাকায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় কক্সবাজারের মতো কুয়াকাটা থেকেও পর্যটন খাতে সরকার প্রচুর রাজস্ব আদায় করা। তবে এর জন্য প্রয়োজন আগে ঘুমন্ত পর্যটকদের ঘুম ভাঙ্গানো জরুরি। গানের মাধ্যমে পর্যটকদের ঘুম ভাঙ্গাতে পারলে নিজের কাছে ভালো লাগবে বলে জানান তিনি। তবে তিনি চান না তার গান শুনে কোন সুনামি কুয়াকাটার দিকে অগ্রসর হোক। এর আগে কোরাম সংকটে থাকা অবস্থায় সংসদে ঘুমন্ত স্পীকার ও সাংসদদের ঘুম ভাঙ্গিয়েছেন সাংসদ মমতাজ। এ কারণে পর্যটকদের ঘুম ভাঙ্গাতে তিনি আশাবাদী।

৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় মমতাজ গান গাইতে মঞ্চে উঠবেন তাই এখন থেকেই মঞ্চ শক্ত কাঠ দিয়ে তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে।

March 15, 2011

ক্ষুর-চাকু নিয়ে সংসদ ভবনে ঢোকার চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব মতিবেদক

জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে গত সোমবার রাতে সংসদ ভবনের দুই নম্বর গেট থেকে মোমেন ইবনে সাঈদ নামে এক অস্ত্রধারী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারাল চাকু ও ক্ষুর নিয়ে সে সংসদ ভবনে ঢোকার চেষ্টা করছিল। তার এই অনুপ্রবেশ-চেষ্টার রহস্য কী, তা জানতে পুলিশ তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। গ্রেপ্তারকৃত যুবক ঢাকা কলেজের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের কর্মী বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

শেরে বাংলানগর থানার ওসি সৈয়দ জিয়াউজ্জামান মতিকণ্ঠকে বলেন, ওই যুবকের কাছে পাওয়া গেছে সাত ইঞ্চি লম্বা একটি ধারাল চাকু ও একটি ক্ষুর। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এলোমেলো তথ্য দিয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য ধারাল অস্ত্র দুটি কাছে রেখেছিল বলে দাবি করেছে। তবে তার তথ্য আমলে নেওয়া হয়নি। আরো তথ্য জানার জন্য গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের নিরাপত্তাকর্মী লিখিত অভিযোগে বলেছেন, অস্ত্রসহ ধরা পড়া যুবকটি বৈধ পাস ছাড়াই সংসদ ভবনের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালায়। তার উদ্দেশ্য অসৎ ছিল।

ধারাল অস্ত্র নিয়ে সংসদ ভবনে ঢোকার রহস্যময় এ চেষ্টার কূল-কিনারা করতে পুলিশ ও গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছেন। শেরে বাংলানগর থানার ওসি জিয়াউজ্জামান বলেন, সোমবার রাতেই সাঈদকে থানায় এনে কয়েক দফা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই যুবক নিজেকে ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগের একজন কর্মী দাবি করলে সেটা যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কেন সে অস্ত্র নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করেছিল, সে সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিচ্ছে না।

ধারণা করা হচ্ছে, ওই যুবক বাল ফেলতে সংসদ ভবন এলাকায় ঢোকার চেষ্টা চালায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ বলেন, সংসদে গিয়ে বাল ফেলার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই।

March 15, 2011

গায়ানা ধুয়ে পানি খাই



উৎরাফুল শুভ্র | তারিখ: ১৬-০৩-২০১১

১১৭ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর গ্রায়েম স্মিথের চেয়ে খুব একটা কম দুশ্চিন্তা হয়নি সাকিব আল হাসানের! পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ, অথচ বাংলাদেশ অধিনায়ক যে কাল সেই দক্ষিণ আফ্রিকারই প্রবল সমর্থক!

সন্ধ্যার পরপর সাকিবকে যখন ফোনে ধরা গেল, তাঁর চোখ টেলিভিশনে দক্ষিণ আফ্রিকা-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে। হাসতে হাসতে বললেন, ‘আজ আমি দক্ষিণ আফ্রিকার সাপোর্টার। আগামী পরশু ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু ভাইবেন না তার পরের দিন আপনাকে সাপোর্ট দিব। উটপোঁদ শুভ্রের সাথে হুঁকাপানি বন্ধ।’

বন্ধ হওয়ারই কথা। কাল দক্ষিণ আফ্রিকা হেরে গেলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার যে সমীকরণ গুছিয়ে এনেছে বাংলাদেশ, সেটি এলোমেলো করে দিতে পারতাম আশরাফুলকে ঢোকানোর (মানে দলে ঢোকানোর কথা বলছিলাম আর কি, হে হে) চেষ্টা করে। তবে তা পারিনি। পাণ্ডুলিপির প্রথম অধ্যায় বাংলাদেশের প্রত্যাশামতোই লেখা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়টাও তা-ই হলে, মানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিলে, এই লেখার বাকি অংশ আমার অন্যান্য সব লেখার মত নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হবে।

বাকি অংশে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী শনিবারের মহারণ।

এই বিশ্বকাপে ফিরে ফিরে আসছে চার বছর আগের ক্যারিবিয়ান বিশ্বকাপ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এসেছে ত্রিনিদাদ। আয়ারল্যান্ডের আগে বারবাডোজ। দক্ষিণ আফ্রিকা ফিরিয়ে আনছে গায়ানার স্মৃতি। আহা, বড়ই সৌন্দর্য। গাছে গাছে পাখি, বিচে বিচে গেঞ্জি আর হাফপেন্ট পরা মেয়ে, বারে বারে মদ, মোড়ে মোড়ে দুষ্টুপাড়া। বড় মনোরম সে স্মৃতি।

ক্যারিবিয়ান বিশ্বকাপ নিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলকে প্রশ্ন করা হয়নি। উত্তরটা তো অনুমিতই। আশরাফুলের ৮৩ বলে ৮৭ রানের স্ট্রোক ঝলমলে এক ইনিংসেই লেখা হয়েছিল ওই গায়ানা-কাব্য। সেই কাব্য ধুয়েই তো এই চার বছর পানি খেল সে। স্মরণীয় ইনিংস কম খেলেনি, তবে এটি এখনো আশরাফুলের কাছে ‘স্পেশাল ইনিংস’-এর মর্যাদা পায়। কারণ স্মরণীয় অন্যান্য ইনিংসগুলিতে আশু ২ রান বা ৩ রান করে হাসিমুখে ফিরে এসেছেন সাজঘরে, তারপর বসে বসে রাম পান করেছেন। ক্যারিবিয়ান ক্যাপ্টেন জ্যাক রাম। রাম নাম জপনা পরায়া মাল আপনা।

আরেকটি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ আশরাফুলের মনে ফিরিয়ে আনছে সেই স্মৃতি। সঙ্গে একটু দুঃখও। এবার যে তাঁর দর্শক হয়ে থাকাটা একরকম নিশ্চিতই। দুই ম্যাচ খেলার পর গত দুই ম্যাচে বাদ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একাদশ নির্বাচনের সময় কি আশরাফুলের ওই ইনিংস বিবেচনায় আসবে? অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ছোট্ট উত্তর দিচ্ছেন, ‘চান্স কম’। আসলে পড়তে হবে, ‘কোনো চান্স নেই।’

চেষ্টার ত্রুটি আমি করিনি। যত রকম পলিটিক্স খাটানো যায়, চেষ্টা করে গেছি। জামালপুর থেকে এক ওঝাকে এনে মাহমুদুল্লাহর চুল আর নখ যোগাড় করে দিয়েছি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক ভুদু ওস্তাদকে ধরে নাফীসের পুতুলের পুটুতে সুঁই ঢুকিয়েছি, কিন্তু কিছুই হয়নি। বেটারা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নেট প্র্যাকটিস করছে। পারলাম না আমার আশুকে ঢোকাতে (মানে দলে ঢোকাতে, হে হে)।

আশরাফুলও সেটি বুঝে গেছেন, ‘গায়ানার কথা খুব মনে হচ্ছে বলে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগে বেশি খারাপ লাগছে। আমি বোধ হয় খেলছি না, তবে আমি চাই, বাংলাদেশ যেন এবারও জেতে।’ আরে বেটা মদন, বোধহয় আবার কি। তুই খেলছিস না। কোনোমতেই না।

খেলার বাইরেও গায়ানার অনেক স্মৃতিই ভিড় করছে আশরাফুলের মনে। হোটেল, ইন্ডিয়ান রেস্টুরেস্ট, বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানাতে গায়ানার মহিলা প্রধানমন্ত্রীর টিম হোটেলে চলে আসা…। মাশরাফির একটা নদীর কথাও খুব মনে পড়ছে, ‘এয়ারপোর্ট থেকে আমরা যখন বাসে হোটেলে যাচ্ছি, পাশেই একটা বড় নদী পড়েছিল। শুনলাম, ওই নদীর ওপারেই নাকি ব্রাজিল। ব্রাজিল দেখার খুব শখ তো, তাই কথাটা এখনো মনে আছে।’

ব্রাজিলে কার্নিভাল আর সাম্বা নৃত্য দেখার আমারও খুব শখ। সামনে ফুটবল বিশ্বকাপে গেলে ভালমত দেখে শুনে আসব। আশু যদি সাথে যেতে চায়, ওকেও নিয়ে যাব। দুইজনে অনেক মজা করব।

যেসব দেশ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল, তাদের মধ্যে গায়ানাই একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে দ্বীপরাষ্ট্র নয়। ব্যতিক্রম আরও অনেক দিক থেকেই। বারবাডোজ-অ্যান্টিগার তুলনায় অনেক সস্তা। বারবাডোজের দুষ্টুপাড়ায় মেয়েদের সর্বনিম্ন রেট ৫০ ডলার, গায়ানাতে আপনি ২৫ ডলারেই মেয়ে ভাড়া করতে পারবেন। জর্জটাউনের রাস্তাঘাটও অনেকটা বিশ্বকাপ-পূর্ব ঢাকার মতো। প্রচুর ভারতীয়ের বাস। ভারতীয় রেস্টুরেস্ট-টেস্টুরেস্ট মিলিয়ে জর্জটাউনে দেশীয় আবহই পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেই অনুভূতিটা আরও জোরালো হয়েছিল পুরো স্টেডিয়ামের সমর্থনে, সাকিবের যেটি সবার আগে মনে পড়ছে। বেটা ছ্যাচড়া, চিনে শুধু ভাত আর মুরগির গোস্ত।

হাবিবুল বাশার বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকার আসল ওষুধ তো চাপ। ওরা ‘চোকার্স’, চাপ দিলেই ভেঙে পড়ে। জায়গামত চাপ দিতে পারাটাই আসল কথা।

এই রে, আশু ফোন দিয়েছে। এখন রাখি, কালকে আবার লিখব ক্রিকেট নিয়ে আমার পুটুমার্কা কলাম।

%d bloggers like this: