Archive for March 19th, 2011

March 19, 2011

জাস্ট সরি: সাকিব

অনলাইন মতিবেদক | তারিখ: ১৯-০৩-২০১১

আশায় বুক বেঁধেছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাবেন সাকিব আল হাসানরা। উৎসবে মেতে উঠবে গোটা দেশ। কিন্তু উৎসবে মেতে ওঠা দূরে থাক, সমর্থকদের চোখে-মুখে এখন কেবলই বিষাদের ছায়া। স্বপ্নভঙ্গের বেদনার সঙ্গে ক্রিকেটাররা যে দিলেন ৭৮ রানে অলআউট হওয়ার গ্লানি!

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু নয়। বাংলাদেশ লড়াই করে হারলেও প্রাপ্তির খাতায় কিছু একটা থাকত। ম্যাচ পরবর্তী পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, জাস্ট সরি!

বাংলাদেশের জান, সাকিব আল হাসান

কিন্তু কেন সরি?

সাকিব বলেন, আমাদের দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের প্রিয় দল পাকিস্তান। আমরা খেলা শিখি পাকিস্তান দলের খেলা দেখে। তাই পাকিস্তান দলের খেলা হলে আমরা সেটা কখনোই মিস করি না। আজ আমাদের খেলা আর প্রিয় দল পাকিস্তানের খেলা একই দিনে পড়ায় আমরা শরদ পাওয়ারকে বলেছিলাম পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটি দু’ঘন্টা দেরিতে শুরু করতে। আমাদের অনুরোধের কোন দাম দিলেন না আইসিসির সবচেয়ে পাওয়ারফুল ব্যক্তি শরদ পাওয়ার। তাই আমরা ক্ষুদ্ধ হয়ে তাড়াতাড়ি অলআউট হয়ে গেছি। সাকিব আক্ষেপ করে বলেন, আরো তাড়াতাড়ি আউট হতে চেয়েছিলাম কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা আমাকে আউট করতে পারছিল না বলে পাকিস্তানের বোলিংয়ের শুরুর দুই ওভার মিস করেছি আমি।

তিনি বলেন, ‘আমরাও মানুষ। আর দশজনের মত আমাদেরও চাওয়া-পাওয়া থাকতে পারে। আমাদের প্রিয় দলের খেলা দেখতে দিতে হবে। না হলে আমরা দেশবাসীর প্রত্যাশা মেটাতে পারব না। জাস্ট সরি।’

সাকিব আরো বলেন, আজ জিততে না পারায় তিনি চাপমুক্ত। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান জিতলে পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল দেখার জন্য তিনি পাকিস্তানের পতাকা হাতে স্বশরীরে স্টেডিয়ামে যাবেন। প্রিয় দল পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা সংগ্রহ করার জন্য তিনি  মিরপুর ১ এর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে ঘোরাঘুরি করেছেন বলে আমাদের মতিনিধি জানতে পেরেছেন।

March 19, 2011

আমিনবাজারে ইটের ভাটিতে হামলা, শতাধিক ইট লুণ্ঠিত

নিজস্ব মতিবেদক

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের অদূরে আমিনবাজারের বসুন্ধরা ব্রিক ফিল্ডে আজ বিকালে এক লোমহর্ষক ডাকাতি সংঘটিত হয়। ইটের ভাটির ম্যানেজার লতিফুর রহমান জানান, ডাকাতরা একটি মাইক্রোবাসে করে ইটের ভাটিতে ঢুকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। এতে করে এক আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর তারা শতাধিক ইট মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে আবার ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। লতিফুর রহমান আশঙ্কা করেন, এই ইট কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে।

ইট বহন করছে একটি শিশু

তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের বাসে ইট মারা হবে, এমন কথা শুনে ইট ভাটায় কর্মরত শ্রমিকরা নিজেরাই সোৎসাহে ইট বহন করে এনে মাইক্রোবাসে তুলে দেন।

স্থানীয় মুদি দোকানদার জানান, মাইক্রোবাসের আরোহীদের মধ্যে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনকে চিনতে পেরেছেন।

খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইটের ভাটায় ডাকাতির সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, তিনি বিকালে মাকালের কণ্ঠের ক্রীড়া সাংবাদিক মস্তফাক মামুনের সাথে ছিলেন। মস্তফাক মামুনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

March 19, 2011

পাকিস্তানের খেলা দেখার জন্য তাড়াতাড়ি অলআউট হয়ে গেছি: সাকিব আল হাসান

ক্রীড়া মতিবেদক, মিরপুর থেকে

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বললেন, ‘পাকিস্তান দলের খেলা দেখার জন্য আমরা আজ তাড়াতাড়ি আউট হয়ে গেছি।’ বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার খেলার সাথে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার খেলা প্রায় দুই ঘন্টা ওভারল্যাপ করার কারণে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা প্রথম থেকেই মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। খেলা শুরু পূর্বে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে দলের খেলোয়াড়, কোচ, ফিজিওথেরাপিস্ট, ও কর্মকর্তারা এক সম্মিলিত বার্তায় আইসিসি সভাপতি শরদ পাওয়ারের কাছে  অনুরোধ করেন পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি দুই ঘন্টা দেরিতে শুরু করতে। কিন্তু বয়সজনিত কারণে শরদ পাওয়ারের পাওয়ার কমে যাওয়ায় তিনি খেলাটি দুই ঘন্টা পিছিয়ে শুরু করতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। ফলশ্রুতিতে ক্ষুদ্ধ বাংলাদেশ দল ইনিংস বিরতিতে এক সংক্ষিপ্ত মিটিংয়ে তাড়াতাড়ি অলআউট হয়ে যাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

পরষ্পরের পুটু মারছেন মুশফিকুর রহিম ও জুনায়েদ সিদ্দিকী

ম্যাচ শেষে তড়িঘড়ি করে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘তাড়াতাড়ি আউট হবার সিদ্ধান্ত আমার একার নয়। আমরা আইসিসি সভাপতি শরদ পাওয়ারের পাওয়ারহীনতায় ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রতিবাদস্বরূপ তাড়াতাড়ি অলআউট হয়ে গিয়েছি।’ উল্লেখ্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়ের প্রায় সবার প্রিয় দল পাকিস্তান।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঝড়ে বকের নায়ক শফিউল আমাদের মতিবেদককে বলেন, ‘প্রিয় দল পাকিস্তানের খেলা দেখার সুযোগ চাই, দেতে অবে।’ সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের দলের অন্যান্য খেলোয়াড়েরা ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে ‘পাকিস্তানের খেলা দেখা লই চুদুরবুদুর ছইলত ন’ স্লোগান দিচ্ছিল।

বাংলাদেশ দলের ফিজিওথেরাপিস্ট মাইকেল লরেন্স হেনরি আইসিসি সভাপতি শরদ পাওয়ারের পাওয়ার বৃদ্ধির জন্য দুইবেলা খালিপেটে এক চামচ মধুর সাথে দুটি করে শ্রীপুরের বড়ি খাবার পরামর্শ দিয়েছেন।

March 19, 2011

বলেছিলাম না!

উৎরাফুল শুভ্র, মতিবেদক

বলেছিলাম না, আশরাফুলকে দরকার? অথচ সত্য কথা বলার অপরাধে আমাকে কত কথাই না শোনতে হল। আমার ক্রিকেটজ্ঞান ও ক্রিকেটপ্রজ্ঞা কোন মানের, এবারে বুঝলেন? আবার প্রমাণিত হল, প্রাজ্ঞের কথা পুরাতন হলেই প্রমাণিত হয়।

সেই কবে থেকে ওকালতি করে আসছিলাম আশরাফুলের হয়ে। দেশে যদি ক্রিকেটার বলতে একজনও থাকে, সেটা সে। অথচ তাকে উপেক্ষা করে গেল ক্রিকেটজ্ঞানহীন কোচ ও অধিনায়ক। দুটো ম্যাচে খেলতে দিল যেন দয়া করে। তারা কেন বুঝে না, ব্যাটিং করার সময় যেমন সেটল হতে আশরাফুলের সময় লাগে (যদিও সেটল হবার আগেই সে প্যাভিলিয়নমুখী হয় বরাবর), একইভাবে তাকে দলে অভ্যস্ত হতে সময় দিতে হবে না? দেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যানকে এভাবে অবহেলা করে প্রকারান্তরে আমরা অবহেলা করছি দেশের ক্রিকেটকে।

একটা যুগ ছিল, যখন বাংলাদেশের ম্যাচ জেতা আর আশরাফুলের ব্যাটিং সমার্থক ছিল। এর পরে গুচ্ছের ম্যাচ উইনার এসেছে, কিন্তু তাই বলে আশরাফুলকে ভুলে যেতে হবে? ম্যাচের পর ম্যাচ নাহয় খারাপ পারফরমেন্সই করল সে, তাই বলে তাকে দলের বাইরে রাখতে হবে? ৪০-৫০ ম্যাচ খেললে অন্তত একটিতে সে অবদান রাখতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে? অথচ এই সুযোগ থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফল দেখুন হাতেনাতে।

লেখার মাধ্যমে দলের ভেতরে কোন্দল বাধিয়ে, সাকিবকে আচ্ছামতে পেঁদিয়ে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছি আশরাফুলকে খেলানোর। কিন্তু গুটিকয়েক ক্রিকেট-অর্বাচীনের হঠকারী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ হুমকির মুখে। সেখান থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে পারে একমাত্র আশরাফুল। এই একজন ক্রিকেটারই আমূল বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। অন্য কেউ নয়।

তাই আশু আশুবন্দনায় উৎসর্গ করবো নিজেকে।

%d bloggers like this: