Archive for April 2nd, 2011

April 2, 2011

‘কোনো একটি ইস্যুতে সম্পর্ক খারাপ হবে না’

ঢাকা, এপ্রিল ০১ (মতিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) – ‘কোনো একটি ইস্যুর কারণে ৪০ বছরের আস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী।

মতিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খেজুর গাছের মত। এর শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। অনেকক্ষেত্রেই দুটো দেশ অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। উদাহরণস্বরূপ পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কথা বলা যেতে। গওহর রিজভী সহাস্যে বলেন, ‘আমেরিকা পাকিস্তানের পরীক্ষিত বন্ধু, আমরা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পরীক্ষিত বন্ধু।’

দুটি বন্ধু রাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কে ব্যাঘাত না ঘটিয়েও কোন কোন ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সংসারের প্রতিটা সিদ্ধান্তে আমার বউ আমার সাথে ভিন্ন মত পোষণ করে, তাই বলে কি আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কে কোন ব্যাঘাত ঘটেছে?’

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও. ব্লেক বাংলাদেশ সফরে এসে গত ২২ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অব্যাহতি ইস্যুতে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে বিমান হামলা চালাবে।

তিনি বলেন, ‘তাঁকে (ইউনূস) যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রে আমরা (বান্ধবী হিলারি ক্লিনটন) খুবই উদ্বিগ্ন। ফ্রেন্ডস অফ গ্রামীণকে উপেক্ষা করে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাতে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে।’ তিনি বাংলাদেশ সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী তিনদিনের মধ্যে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে সরকার যদি কোন সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাতে না পারে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে জঙ্গি বিমান হামলা চালাবে।

তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার তড়িঘড়ি করে ইউনূস ইস্যুতে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করে কিন্তু বেঁধে দেয়া তিন দিন সময়ের মধ্যে কোনরূপ সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ফলশ্রুতিতে ৭২টি যুদ্ধবিমানবাহী মার্কিন রণতরী ইউ এস এস ইউনূস বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে সুয়েজ খাল অতিক্রম করার সময় সোমালি জলদস্যুরা ইউ এস এস ইউনূসের দখল নিয়ে নেয়। বতর্মানে ইউ এস এস ইউনূসের মুক্তিপণ নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ও সোমালি জলদস্যুদের মধ্যে দর কষাকষি চলছে বলে জানা গেছে।

অনুমোদন না নিয়ে পদে থাকার কারণ দেখিয়ে গত ২ মার্চ নোবেলজয়ী ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতির আদেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ইউনূস হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে তাও নাকচ হয়ে যায়। পরে তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করেন।

ইতিমধ্যে ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আদৌ বাংলাদেশ আক্রমণ করবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছে বিরোধী দল বিএনপি। বিরোধীদলের জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মতিকণ্ঠকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিমান আক্রমণের সিদ্ধান্তে আমরা খুশি হয়েছিলাম। অতিরিক্ত বয়স দেখিয়ে ড. ইউনূসকে গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার আগে বাকশালি সরকারের উচিত নিজের দলের বুইড়া ভামগুলোকে অব্যাহতি দেয়া।’

April 2, 2011

নিজ বাড়িতে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হলেন লতিফুর বেপারি

ছাগলনাইয়া মতিনিধি: ফেনি জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার লতিফুর বেপারি তার নিজবাড়িতে ছাগলখামার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হওয়ার উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখছেন। তার এ ছাগলপালন করতে তেমন কোন ব্যয় হয় না। বছর দশেক ধরে ছাগলপালন করে এলাকায় আদর্শবান ছাগলপালনকারী কৃষক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি।

ফেনি জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের আবদুর রহমান বেপারির পুত্র লতিফুর রহমান বেপারি বিএনপি সরকারের  কালো বাংলা ছাগল প্রকল্প দেখে অনুপ্রানিত হয়ে পূর্ণবয়স্ক বাচ্চা দিতে সক্ষম ৪টি কালো বাংলা ছাগী (ব্লাক বেঙ্গল ছাগী) কিনে বাড়িতে পালতে শুরু করেন। সেই বছরই ছাগীগুলো বাচ্চা দেয়। এতে তিনি ছাগল পালনে ভাল লাভ দেখতে পান এবং অল্প পুঁজিতে স্বনির্ভর হবার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। পরে আরো বেশ কয়েকটি ছাগল কিনে পালন করতে থাকেন। তার বাড়িতে ছাগলের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ৭২টি ছাগলে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এ ছাগলপালনে তার তেমন কোন ব্যয় হয় না। ছাগলগুলোর দেখভাল করার জন্য তিনি উত্তর বঙ্গ থেকে আগত মফিজুল হককে মোটা মাইনে দিয়ে নিযুক্ত করেছেন।

প্রতিদিন সকালে, বিকালে মাঠে অথবা রাস্তার ধারে কাঁঠালগাছের আশেপাশে কয়েক ঘন্টার জন্য ছাগলগুলো ছেড়ে দিয়ে চলে আসেন লতিফুর বেপারি। ফলে বাড়িতে ছাগলগুলোকে তেমন একটা খেতে দেয়া লাগে না। কাঁঠালপাতার এমনই তেজ যে লাদিবর্ষণ চলতে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। সেই লাদি শুকিয়ে জ্বালানী হিসাবে বাজারে বিক্রি করেও তার বেশ লাভ হয়।

কালো বাংলা ছাগী

ছাগলপালন সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে লতিফুর বেপারি বলেন, অন্যান্য জাতের তুলনায় ব্লাক বেঙ্গল ছাগীর রোগবালাই কম। ব্লাক বেঙ্গল ছাগী দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। বছরে দুবার বাচ্চা দেয়। প্রতিবার সাধারণত দুটি করে বাচ্চা দেয়। ছাগলের দুধ শিশু, বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষই সহজে হজম করতে পারে। ছাগলের দুধ যক্ষ্মা রোগের জীবাণুমুক্ত এবং হাঁপানি রোগের ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি মনে করেন গুণগত মান দিয়ে ব্লাকবেঙ্গল ছাগলের মাংস ও চামড়া বিশ্ব বিখ্যাত। ছাগলের মাংস ও চামড়া রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। ছাগলপালন মাঝারি চাষিদের অতিরিক্ত আয়ের উৎস হতে পারে। তিনি আরো মনে করেন, যাদের গরু পালন করার মতো সময় নেই, তারা সহজেই ২/৩টি ছাগল পালন করতে পারেন। তাছাড়া গরিব ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়িতে সহজেই দু—একটি ছাগলপালন করে বাড়তি আয় করতে পারে। অপরদিকে মাংসের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

লতিফুর রহমান জানান, ছাগলগুলোর ক্রেতারা মূলত রাজধানী কারওয়ানবাজার, পান্থপথ, নিউ ইস্কার্টন, ও কাকরাইল প্রভৃতি এলাকা থেকে আসেন। বিক্রির পর ছাগলগুলো মূলত দ্বিতীয় কালো, আবালের কণ্ঠ, পুটুরজমিন প্রভৃতি পত্রিকায় ক্রীড়া বিভাগ, কম্পিউটার প্রতিরাত, টেকিকানা কর্ণার ইত্যাদি বিভাগের বিভাগীয় সম্পাদক—প্রদায়ক হিসাবে কাজ করে।

 

April 2, 2011

ফিরে দেখা ১/১১: কামানের ভয় দেখানো হয়েছিল রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে

বিশেষ মতিবেদন: ওয়ান-ইলেভেনের দিন মীর জুমলার কামানের ভয় দেখানো হয়েছিল প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে। বাধ্য করা হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের  হোতাদের কথামতো কাজ করতে। জরুরী অবস্থা ঘোষণা ও প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের প্রস্তাব শুনে প্রথমে তিনি প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, ‘বঙ্গভবনের সিট লই চুদুরবুদুর  ছইলত ন’। তখন প্রস্তাবকারীদের ভেতর থেকে একজন বলেন, ‘বুঝেছি, সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না! এই কে আছিস? ওসমানী উদ্যান থেকে মীর জুমলার কামানটা খুলে নিয়ে  আয়।’ এ কথা শুনে ঘাবড়ে যান রাষ্ট্রপতি ইয়াজু। আজো সেই দিনের কথা মনে হলে ড. ইয়াজুর বুকটা কেঁপে উঠে, কলিজা শুকিয়ে ঠান্ডা পিঁয়াজুতে পরিণত হয়।

ইয়াজউদ্দিন বয়াতি ও তার গানের দল

ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তার ঘনিষ্টজনদের কাছে বলেছেন ওয়ান-ইলেভেনের সেদিনের কথা। মীর জুমলার কামান কান্ধে নিয়ে হাঁটা সম্ভব কি না সে চিন্তাও তার মাথায় আসেনি  সে সময়। ওয়ান ইলেভেনের দিন বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সেনা কর্মকর্তারা। গিয়েছিলেন ওই সময়ের সেনা প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার  ভাইস মার্শাল ফখরুল আজম, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এমএ হাসান আলী খান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর  আলম চৌধুরী, ডিজিএফআই-এর ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী, ডিজিএফআই-এর আরেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড.  এটিএম আমিন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

ড. ইয়াজউদ্দিনের ভাষায়, যদিও তারা বলার চেষ্টা করেন তারা নিরস্ত্র ছিলেন কিন্তু এর চেয়ে বড় মিথ্যা আর হতে পারে না। আমি একা, তারা পাঁচজন। আমার হাত খালি, তাদের  হাতে মীর জুমলার কামান! সেইরকম শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি! আমার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আমিনুল করিম সেদিন সাহসী ভূমিকা রাখতে পারতেন। কিন্তু তিনি  পদোন্নতির আশায় আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন সেদিন। তার বেঈমানি আজও আমাকে কাঁদায়!

সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন বলেন, ‘আমি দুপুরে ভাত খেয়ে অফিস রুমে ঢুকে দেখি তিন বাহিনী প্রধান ও আরো দুজন আমার অফিসে বসে আছে।  তারা প্রথমে আমাকে সম্মান জানালেন। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করলেন। জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ বললেন, স্যার জরুরি অবস্থা জারি করা দরকার। যে কোন ভাবেই  হোক দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। যদি তা না হয়, চলমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে জাতিসংঘ বাংলাদেশের সকল ফোর্স ফেরত পাঠাবে। এ কথা বলে  আমার টেবিলে একটা চিঠি রাখলেন।’ আমি চিঠিটা দেখলাম, তারপর মঈনকে বললাম, ‘আমি আমার ওয়াইফের মতামত জানতে চাই। তিনি যদি আমাকে পদত্যাগ করতে বলেন তাহলে আমি পদত্যাগ করব।’ এ কথা  শুনে মঈন ইউ আহমেদ বললেন, ‘আমার ওয়াইফ বলেছে আপনাকে অতি অবশ্যই দায়িত্ব হস্তান্তর করে পদত্যাগ করতে হবে। সুতারাং, দেশের স্বার্থে আপনার ওয়াইফের মতামতের  কোন মূল্য থাকছে না আর।’

মীর জুমলার কামান (বিবি মরিয়ম)

ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্ববধায়ক সরকারের দুই বছর সময়ে বঙ্গভবনে একটি দিনও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেননি। সারাক্ষণ একটা আতঙ্ক তাকে তাড়া করে ফিরতো। তিনি এতটাই  ভীতসন্ত্রস্ত থাকতেন যে এক পর্যায়ে অত্যন্ত  অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার হাত-পা কাঁপতো। স্ত্রীর কথা না শুনে মীর জুমলার কামানের ভয়ে ভীত হয়ে ওয়ান-ইলেভেনের হোতাদের কথামতো কাজ করার কারণে তার স্ত্রী তাকে কোনদিন ক্ষমা করবেন না।

April 2, 2011

ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ আফ্রিদি

ভারত—পাকিস্তান সেমিফাইনালের দিন দুয়েক আগে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক। উৎসাহব্যঞ্জক কথায় কোথায় দলের পিঠ চাপড়ে দেবেন, তা না, অদ্ভুত ভঙ্গিতে উল্টো চোখ রাঙ্গিয়েছিলেন তিনি, ‘আমি সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছি, যেন কোয়ার্টার ফাইনালের মত আবারো ম্যাচ পাতানো হয়। আমি নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি ম্যাচ গড়াপেটার মতো কিছু না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’ এ নিয়ে তখন কিছু বলেননি আফ্রিদি। তবে দেশে ফেরার পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতিটা যে সময়ে দিলেন, মনে হয় না তা ঠিক ছিল। তিনি আমাকে তিন—চারবার ফোন করেছিলেন। অথচ ভারতীয় অধিনায়ক ধোনিকে একবারও ফোন করলেন না। আমি একা চাইলেই তো ম্যাচ পাতাতে পারব না। এক হাতে কি তালি বাজে?’

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এখন এ এক অনিবার্য নিয়তি। তারা যেন কোন ম্যাচ জিততে পারবে না। জিতলেই সেই ম্যাচ পাতানোর অঙ্গুলি নির্দেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জয়ের পর মোহাম্মদ ইরফান মুখতার মামলা ঠুকে দিয়েছেন লাহোরের হাইকোর্টে। তাঁর সন্দেহ কোয়ার্টার ফাইনালটা পাতানো ছিল, ‘পাকিস্তানের  কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে আত্মসমর্পণ করল, তাতে এটি নিশ্চিত যে ম্যাচটি পাতানো ছিল।’ মোহাম্মদ মুখতারের মতে ক্রিকেট বোর্ড চেয়ারম্যান, অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি, টেস্ট দলের অধিনায়ক মিসবাহ—উল—হক, কামড়ান আকমল, মোচড়ান আকমল প্রমুখ ওয়েস্ট ইন্ডিজের  বিরুদ্ধে খেলা ম্যাচটি পাতানোর কাজে জড়িত ছিল।

বাজিছে দামামা, বাঁধরে আমামা, ধরে পুটু মারি পাকিস্তান

মুদ্রার অন্য পিঠ ও কিন্তু আছে।  আফ্রিদিরা করাচিতে পৌঁছার পর ম্যাচ পাতানোর সমর্থনে স্লোগান তুলেছে কয়েকশ পাকিস্তানি খানকির পোলা। তার ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নিয়েছে বাটপার ক্রিকেটারদের। এসব নিখাঁদ ক্রিকেটপ্রেমী জানিয়েছে, একাট্টা হয়ে ম্যাচ পাতালে পাকিস্তানকে হারাতে পারে কোন শালা?

বিশ্বকাপের আগের ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তানের জন্য ম্যাচ পাতানো খুব সহজ ছিল না। আগে আলাদাভাবে দু—তিনজন খেলোয়াড় ম্যাচ পাতানোর কাজে জড়িত থাকত। কিন্তু এবার সবাই মিলে একটি দল হিসাবে ম্যাচ পাতানোর কাজ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করে আফ্রিদি বলেন, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথাসময়ে প্রয়োজনীয় অর্থের সংকুলান করতে না পারায় আমরা ভারতীয় দলের সাথে ম্যাচ পাতানোর কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারিনি।’

বিশ্বকাপের ফাইনাল এখনো বাকি। তবে পাকিস্তানের জন্য বরাবরের মতই বিশ্বকাপ ঢুকে গেছে অতীতের গর্ভে। কবে একবার ম্যাচের পর ম্যাচ পাতিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল — সেটা ধুয়েই আরো কত বিশ্বকাপ পার করতে হয় কে জানে। পিটিআই অবলম্বনে — ঠাপের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক বাংপাকি মতিবেদক

%d bloggers like this: