ফিরে দেখা ১/১১: কামানের ভয় দেখানো হয়েছিল রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে

বিশেষ মতিবেদন: ওয়ান-ইলেভেনের দিন মীর জুমলার কামানের ভয় দেখানো হয়েছিল প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে। বাধ্য করা হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেনের  হোতাদের কথামতো কাজ করতে। জরুরী অবস্থা ঘোষণা ও প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের প্রস্তাব শুনে প্রথমে তিনি প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, ‘বঙ্গভবনের সিট লই চুদুরবুদুর  ছইলত ন’। তখন প্রস্তাবকারীদের ভেতর থেকে একজন বলেন, ‘বুঝেছি, সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না! এই কে আছিস? ওসমানী উদ্যান থেকে মীর জুমলার কামানটা খুলে নিয়ে  আয়।’ এ কথা শুনে ঘাবড়ে যান রাষ্ট্রপতি ইয়াজু। আজো সেই দিনের কথা মনে হলে ড. ইয়াজুর বুকটা কেঁপে উঠে, কলিজা শুকিয়ে ঠান্ডা পিঁয়াজুতে পরিণত হয়।

ইয়াজউদ্দিন বয়াতি ও তার গানের দল

ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তার ঘনিষ্টজনদের কাছে বলেছেন ওয়ান-ইলেভেনের সেদিনের কথা। মীর জুমলার কামান কান্ধে নিয়ে হাঁটা সম্ভব কি না সে চিন্তাও তার মাথায় আসেনি  সে সময়। ওয়ান ইলেভেনের দিন বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সেনা কর্মকর্তারা। গিয়েছিলেন ওই সময়ের সেনা প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার  ভাইস মার্শাল ফখরুল আজম, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এমএ হাসান আলী খান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর  আলম চৌধুরী, ডিজিএফআই-এর ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী, ডিজিএফআই-এর আরেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড.  এটিএম আমিন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

ড. ইয়াজউদ্দিনের ভাষায়, যদিও তারা বলার চেষ্টা করেন তারা নিরস্ত্র ছিলেন কিন্তু এর চেয়ে বড় মিথ্যা আর হতে পারে না। আমি একা, তারা পাঁচজন। আমার হাত খালি, তাদের  হাতে মীর জুমলার কামান! সেইরকম শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি! আমার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আমিনুল করিম সেদিন সাহসী ভূমিকা রাখতে পারতেন। কিন্তু তিনি  পদোন্নতির আশায় আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন সেদিন। তার বেঈমানি আজও আমাকে কাঁদায়!

সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন বলেন, ‘আমি দুপুরে ভাত খেয়ে অফিস রুমে ঢুকে দেখি তিন বাহিনী প্রধান ও আরো দুজন আমার অফিসে বসে আছে।  তারা প্রথমে আমাকে সম্মান জানালেন। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করলেন। জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ বললেন, স্যার জরুরি অবস্থা জারি করা দরকার। যে কোন ভাবেই  হোক দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। যদি তা না হয়, চলমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে জাতিসংঘ বাংলাদেশের সকল ফোর্স ফেরত পাঠাবে। এ কথা বলে  আমার টেবিলে একটা চিঠি রাখলেন।’ আমি চিঠিটা দেখলাম, তারপর মঈনকে বললাম, ‘আমি আমার ওয়াইফের মতামত জানতে চাই। তিনি যদি আমাকে পদত্যাগ করতে বলেন তাহলে আমি পদত্যাগ করব।’ এ কথা  শুনে মঈন ইউ আহমেদ বললেন, ‘আমার ওয়াইফ বলেছে আপনাকে অতি অবশ্যই দায়িত্ব হস্তান্তর করে পদত্যাগ করতে হবে। সুতারাং, দেশের স্বার্থে আপনার ওয়াইফের মতামতের  কোন মূল্য থাকছে না আর।’

মীর জুমলার কামান (বিবি মরিয়ম)

ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তত্ত্ববধায়ক সরকারের দুই বছর সময়ে বঙ্গভবনে একটি দিনও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেননি। সারাক্ষণ একটা আতঙ্ক তাকে তাড়া করে ফিরতো। তিনি এতটাই  ভীতসন্ত্রস্ত থাকতেন যে এক পর্যায়ে অত্যন্ত  অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার হাত-পা কাঁপতো। স্ত্রীর কথা না শুনে মীর জুমলার কামানের ভয়ে ভীত হয়ে ওয়ান-ইলেভেনের হোতাদের কথামতো কাজ করার কারণে তার স্ত্রী তাকে কোনদিন ক্ষমা করবেন না।

4 Comments to “ফিরে দেখা ১/১১: কামানের ভয় দেখানো হয়েছিল রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে”

  1. এটা একটু বেশিই ভাল হইসে XD XD !!!!

  2. moja pailam chorom…:)

  3. @ reporter : really u r genius.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: