Archive for April 9th, 2011

April 9, 2011

‘এ ঘুষ শুধু আমার পকেটেই যায় না’

নারিকেল মহামতি

বৃহস্পতিবার সকাল। ঢাকার সবুজবাগ ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা গেল, নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভূমি মালিকরা। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না এখানে। ঘুষের রেটও মোটামুটি বেঁধে দেওয়া। প্রতিটি নামজারির জন্য পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। এ ব্যাপারে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শওকত আলীকে প্রশ্ন করা হলে ঘুষ লেনদেনের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ ঘুষ শুধু আমার পকেটেই যায় না। এর ভাগ সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) থেকে শুরু করে কানুনগো, সার্ভেয়ার, নামজারি সহকারী এমনকি পিয়ন-দারোয়ানরা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।’ তিনি দাবি করেন, যাঁদের পুটু আছে, তাঁরাই ঘুষ খান।

দেশের প্রতিটি ভূমি অফিসের একই চিত্র।

ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার শেখ কামাল হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে প্রকাশ্যে দুর্নীতি হয়-এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে নিজের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঘুষ খাই না। তবে কেউ খুশি হয়ে কিছু দিতে চাইলে না করি না।’

ভূমি অফিসে যেকোনো কাজে ঘুষ লেনদেন সাধারণ ব্যাপার। যেকোনো কাজে ঘুষের টাকা পকেটে নিয়েই ভূমি মালিকদের ভূমি অফিসে যেতে হয়। কোন কাজে কাকে কত ঘুষ দিতে হবে, সে বিষয়ে সহায়তার জন্য প্রতিটি ভূমি অফিসে ঝোলানো রয়েছে ঘুষের তালিকা।

মোহাম্মদপুর ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায় আরেক চিত্র। ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (সহকারী তহশিলদার) মজিবুর রহমানের সঙ্গে সুনীল কর্মকার নামের এক ব্যক্তি তর্ক করছিলেন। সুনীলের অভিযোগ, তিনি হিন্দু বলে তার কাছ থেকে বেশি ‘খরচ’ নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মজিবুর রহমান মতিকণ্ঠকে বলেন, ‘মালাউনরা সংখ্যালঘু। মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্র বাংলাদেশে থাকতে চাইলে সংখ্যালঘু মালাউনদের প্রতিটি ক্ষেত্রেই জিজিয়া কর পরিশোধ করতে হবে। তাই এই বাড়তি খরচ।’

একাধিক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মতিকণ্ঠকে জানান, ভূমি অফিসে ঘুষ নেওয়ার ঘটনা কারো অজানা নয়। একজন ভূমি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও জানেন।

নগরীর ভূমি অফিসগুলোতে প্রকাশ্যে দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করছে দুদক। ঢাকা বিভাগ দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক মেজর আবু জাফর তৌফিক আহম্মদ বলেন, বিগত তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমলে ভূমি অফিসগুলো ছিল দুর্নীতিদুষ্ট। সে সময় গুলশান ও আশুলিয়া ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. দৌলত উল্লাহ ও কাজী এখলাসকে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভূমি অফিসগুলোতে ঘুষ নেয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।’ মতিবেদক ভূমি অফিসগুলোতে চলমান দুর্নীতির চিত্র  সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিরোধীদল বিএনপি এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দুদক তার বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, ভূমি অফিসগুলোতে দুর্নীতির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী। ভূমি অফিসগুলোতে চলমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তিনি আগামী শুক্রবার বাদ জুম্মা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে নগ্ন হবেন বলে জানা গেছে। উলঙ্গ হবার আগে হলিউড তারকা আঞ্জুমান আরা জলির পরামর্শ মোতাবেক পুটু ওয়াক্স করানোর জন্য পারসোনা এডামসে যোগাযোগ করেছেন বলে পার্লার সূত্রে জানা গেছে। সত্যিই তিনি উলঙ্গ হয়ে পুটু প্রদর্শন করবেন কিনা তা জানতে চাইলে আমিনী মতিবেদককে বলেন, ‘আমনে আমাত্তে বেশি বুজেন?’

April 9, 2011

হিরো ফর টুডে

ক্রীড়া মতিবেদক | তারিখ: ০৯-০৪-২০১১

প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার আশরাফুল

বিশ্বকাপ দলে ‘প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার ‘কোটায় জায়গা পেয়েছিলেন বাংলাদেশের সবচাইতে প্রতিভাবান ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল। সেখানে ফ্লপ। দুটো ম্যাচ খেলে রান করেছিলেন ১ ও ১১।

বিশ্বকাপ শেষে আশরাফুল আক্ষেপ করে মতিকণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ দলের কোচ জেমি সিডন্স আসলে দলের ভাল চান না। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে দলেন বাইরে রাখলেন। আপনারা যদি বিশ্বকাপে আমার পারফরমেন্স মুল্যায়ন করেন তাহলে আমার ব্যাটিংয়ে  ধারাবাহিকতার ছাপ দেখতে পাবেন।’

তিনি দাবি করেন বিশ্বকাপে তাকে আরো দুটো ম্যাচ খেলতে দিলে তিনি ১১১ ও ১১১১ রান করতে পারতেন।

বিশ্বকাপ শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক হিসাবে আশরাফুল দল নিয়ে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চারদিনের ম্যাচে ১৪ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। খেলেছেন ২৭ বল, বাউন্ডারি ২টি। প্রথমদিন শেষে স্বাগতিকদের ৭ উইকেটে করা ৩০১ রানের জবাবে আশরাফুলের দল ১৫৬ রানে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

প্রথমদিনের খেলা শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আশরাফুল বলেন, তার ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রয়েছে। ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরের ইনিংসে তিনি ১৪১৪ রান করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

April 9, 2011

’ধর্মবিরোধী’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২৮ বাউলকে তওবা পড়ালো আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা!

রাজবাড়ী মতিনিধি

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে লালন ভক্ত ২৮ বাউলকে লাঞ্ছিত করার পর মাথার চুল ও গোঁফ কেটে দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতারা! ‘ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর কারণ দেখিয়ে বাউলদের মসজিদে নিয়ে তওবা পড়ানো হয়।

শাহ জুঁই বাউল শিল্পীগোষ্ঠীর উপদেষ্টা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, হাবাসপুর ইউপির চর রামনগর গ্রামে গত ৫ এপ্রিল লালন ভক্ত প্রবীণ বাউল মোহম্মদ ফকিরের বাড়িতে সাধু সংঘের দুই দিনব্যাপী বার্ষিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ২৮ জন লালন ভক্ত আসেন। সমাপনী দিনে তাঁরা ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গিয়ে লালন ভক্তদের লাঞ্ছিত করে। মসজিদে নিয়ে গিয়ে বাউলদের গান না গাওয়ার বিষয়ে তওবা করানোর পাশাপাশি তাঁদের লম্বা চুল ও গোঁফ কেটে দেওয়া হয়।

হামলাকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন পার্শ্ববর্তী কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিউর রহমান নবাব।

"নামাজ আমার হইল না আদায়"

আতিউর রহমান নবাব মতিকণ্ঠকে বলেন, ‘মুসলিম ধর্মীয় রীতি না মেনে বাউলরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে জিন্দা ফয়তা ও এক ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ অনুষ্ঠানের নামে মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করছিল। এতে করে এলাকার মুমিন মুসুল্লিদের ঈমান দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। মুসুল্লিদের শক্ত ঈমানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় এলাকার কিছু ঈমানদার যুবক বাউলদের চুল ও গোঁফ কেটে দেয়।’

বাউলদের চুল ও গোঁফ কেটে দেওয়ার খবরে পাংশা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানিয়েছেন সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী হলিউড তারকা আঞ্জুমান আরা জলি। কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিউর রহমান নবাবকে পাঠানো এক বার্তায় জলি বলেন, ‘বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বাউল গান পরিবেশন করা ইসলামে হারাম। মুসলমানদের জন্য ‘হামদ-এ-ইলাহী’ ও ‘নাত-এ-রাসূল ব্যতীত বাকি সবকিছু হারাম।’ তিনি অবিলম্বে মালাউন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটির পরিবর্তে মুসলিম কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি’ গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসাবে স্বীকৃতি দেবার জন্য বাংলাদশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

April 9, 2011

ফুলপুরে ছাত্রকে পিটিয়ে অজ্ঞান করলেন শিক্ষক

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) মতিনিধি | তারিখ: ০৯-০৪-২০১১

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের ঘোমগাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র জুয়েল মিয়াকে (১১) গত বৃহস্পতিবার পিটিয়ে অজ্ঞান করলেন ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। গতকাল শুক্রবার জুয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাদ্রাসার ছাত্ররা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা মাদ্রাসার কক্ষে বসে পড়ছিল। এ সময় মাদ্রাসার অপর কক্ষে বসা সহকারী শিক্ষক সাহাব উদ্দিন তাদের তাঁর কাছে গিয়ে পড়া শোনাতে বলেন। তাদের পড়া দিতে একটু দেরি হওয়ায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ আবদুল হক প্রায় ২০ জন ছাত্রকে এলোপাতাড়ি বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতে জুয়েল অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিক্ষক সাহাব উদ্দিন জানান, ওই ছাত্রদের তাঁর কাছে গিয়ে পড়া দিতে বললেও তারা আসেনি। এতে রাগান্বিত হয়ে তাদের মারধর করা হয়।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবদুল হক জানান, সামান্য বেত্রাঘাত করায় জুয়েল এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, পবিত্র কোরানপাক অনুসারে স্ত্রীপ্রহার যায়েজ হলে ছাত্রকে পেটানো যাবে না কেন, তাও তাঁর বোধগম্য নয়।

%d bloggers like this: