Archive for April 10th, 2011

April 10, 2011

ছেলেকে আটকের অভিযোগ আমিনীর

নিজস্ব মতিবেদক | তারিখ: ১০-০৪-২০১১

ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের নেতা মুফতি ফজলুল হক আমিনী অভিযোগ করেছেন, কোন কারণ ছাড়াই তার ছোট ছেলে আবুল হাসনাতকে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল প্রথম আলোকে জানান, আজ রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর ধোলাইখালে চোরাই গাড়ি মেরামত করার সময় ডিবি পুলিশ হাসনাতকে আটক করে নিয়ে যায়।

ডিবি পুলিশ আটক করেছে বুঝলেন কী করে জানতে চাইলে ওয়াসেল বলেন, হাসনাতের সঙ্গে তাঁর আরও দুই সহযোগী ছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ওয়াকিটকি ও অস্ত্র হাতে লোকজন হাসনাতকে আটক করেছেন। কাজেই আমরা মনে করছি, ডিবি পুলিশই তাঁকে আটক করেছে।

এ ব্যাপারে ডিবি পুলিশের কাছে জানতে চাইলে জানানো হয়, আমিনীর ছেলেকে আটকের ব্যাপারে তারা কিছু জানে না। এদিকে ছেলেকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে লালবাগ মাদ্রাসা কার্যালয়ে বিকেল চারটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন আমিনী। সংবাদ সম্মেলনে আমিনী বলেন, ‘পুলিশে ছুলে আঠার ঘা, আর ডিবি পুলিশে ছুলে ছত্রিশ ঘা!’ তিনি ডিবি পুলিশের সিদ্ধ ডিমের প্রশংসা করে বলেন, ‘ডিবি পুলিশের ডিম গুণে মানে হুজুর সাঈদাবাদীর ডিমের চাইতে অধিকমাত্রায় কার্যকরী।’

আমিনীর ধারণা করেন ডিবি পুলিশ তার পুত্রকে সাথে নিয়ে রাত বারোটার পর অস্ত্র উদ্ধারে বের হবে। তখন আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা ইসলামী ঐক্যজোটের শিশুকর্মীরা কোরআন শরীফ ও লাঠি নিয়ে ডিবি পুলিশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আত্মরক্ষার্থে ডিবি পুলিশ পাল্টা গুলি চালাবে। গোলাগুলির মধ্যে পালাতে গিয়ে ক্রসফায়ারে আমিনীপুত্র পুটুতে গুলি খেয়ে উপুড় হয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাবে। পবিত্র কোরআন শরীফ শিশুদের হাতে তুলে দিয়ে তাদেরকে ডিবি পুলিশের উপর লেলিয়ে দেয়া ইসলামসম্মত কিনা তা জানতে চাইলে আমিনী যথারীতি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমনে আমাত্তে বেশি বুজেন?’

April 10, 2011

বাংলাদেশের এ কী ব্যাটিং!

ক্রীড়া মতিবেদক

মাইকেল ক্লার্ক মহাবিস্মিত। হাতে ৫ উইকেট নিয়েও যে বাংলাদেশ তাদের ইনিংস শেষ করল অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ৬০ রানে পিছিয়ে থেকে, সেটি যেন ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না তার। জয়ের কোন তাড়না নেই। যেন কোনরকমে ৫০ ওভার কাটিয়ে দিতে পারলেই ম্যাচ ফী হালাল! এতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বিস্মিত হলেও বাংলাদেশের অধিনায়ক বলছেন ভিন্ন কথা।

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বললেন, ‘অস্ট্রেলিয়ানরা বর্ণবাদী। বিশ্বের সব দল বাংলাদেশ সফরে এসে সাধারণত ২ টেস্ট ও ৩ ওয়ানডে সিরিজ খেলে। বর্ণবাদী অস্ট্রেলিয়ানরা আমাদের সাথে টেস্ট খেলতে রাজি হল না। টেস্ট খেলতে পারি না বলে সবসময় অবহেলা করা ঠিক না। তাই আমরা টেস্ট খেলে দেখিয়ে দিলাম যে আমরাও পারি।’

বাজে ব্যাটিংয়ের পর দর্শকদের তাড়া খেয়ে পালাচ্ছেন তামিম-সাকিব

সাকিব আল হাসানকে জিজ্ঞাসা করা হল, বিশ্বকাপে ৫৮ ও ৭৮ এর প্রভাবেই কি ব্যাটিংয়ে এত সতর্কতা? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকা—না থাকায় কিছু আসে যায় না। টেস্ট হোক বা ওয়ানডে হোক, হাজারো সতর্ক থাকলেও ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ধুপধাপ ২-৩টা উইকেট পড়ে যাবে আমাদের। এটাই নিয়ম। সুতারাং, বিশ্বকাপের বাজে ব্যাটিংয়ের প্রভাবে সতর্ক হয়ে ব্যাটিং করেছি এটা পুরোপুরি অপপ্রচার। জাতীয় দলের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিরোধীদল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

বাংলাদেশ দলের গেম প্ল্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে সাকিব বলেন, আমরা প্রতিটি খেলার শুরুতেই ধরে নিই খুব ভাল ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষের বোলারদের পুটু ফাটিয়ে ফেলব। কিন্তু মাঠে গিয়ে সব ভজঘট পাকিয়ে যায়। উল্টো প্রতিপক্ষের বোলাররাই আমাদের পুটু ফাটিয়ে লাল সুতা বের করে ফেলে। তাই আপাতত আমরা গেম প্ল্যানের ধারে কাছে নেই।

‘ম্যাচ শেষের অনেক আগেই হেরে বসে ছিলেন কেন?’ জানতে চাইলে সাকিব বলেন, আমরা মোটেও হেরে বসে ছিলাম না। আমাদের অ্যাপ্রোচ সঠিক ছিল। আপনি ভেবে দেখেন, অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভার ব্যাটিং করে উইকেট হারিয়েছে ৭টি আর আমরা ৫০ ওভার খেলে উইকেট হারিয়েছি ৫টি। ক্রিকেট তো উইকেটের খেলা। তাই এক অর্থে আমরাই বিজয়ী।

উইকেট প্রসংগে বলতে গিয়ে সাকিব আল হাসান বলেন,’বল মোটেই ব্যাটে আসছিল না। বিশেষ করে পুরনো বলে ব্যাটিংটা খুব কঠিন ছিল। আমার মনে হয় খেলাটি যদি ভালোভাবে দেখে থাকেন, যে কেউই বলতে পারবেন, এ উইকেটে দ্বিতীয় ভাগে ব্যাটিং করাটা খুব কঠিন ছিল।’ ‘তাহলে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করলেন না কেন?’ মতিবেদকের এ প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘আমনে আমাত্তে বেশি বুজেন?’

April 10, 2011

সাংবাদিকের সাংঘাতিক ক্রিকেটজ্ঞান

উটপোঁদ শুভ্র, দ্বিতীয় আলো

মোবাইলটা বন্ধ করে রেখেছিলাম। ম্যাচ শুরুর আগে সাকিব ফোন করে যদি আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, টসে জিতে ব্যাটিং নাকি ফিল্ডিং নেওয়া উচিত, আমি তার উত্তর দিতে পারতাম কি? পারতাম না। সেই জ্ঞান আমার থাকলে তো! ভাবছেন, তাহলে আমার লেখায় এত বিশেষজ্ঞীয় ভাব থাকে কেন? কেন আমার লেখা পড়লে মনে হয় আমি সব জানি, সব বুঝি? বলছি।

টসে জিতে দল হেরে গেলে তখন আমি বিশেষজ্ঞ বনে যাই। আমি তখন বলতে পারি, টসে জিতে কেন ব্যাটিং/ফিল্ডিং নেওয়া উচিত হয় নি। আসলে লেখার টেবিলে বসে ক্রিকেট খেলার মজাই আলাদা। পরম বোদ্ধার ভাব নিয়ে “কী করিলে কী হইতো” জাতীয় তত্ব কপচে ভাব নেওয়া যায়। আবাল পাবলিক সেইসব গেলেও। নিজে ক্রিকেট ঠিকমতো না বুঝলেও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরকে শিক্ষক ষ্টাইলে নিরন্তর জ্ঞানদান করে আমি কী যে ‘উৎপুল্ল’ হই! দ্বিতীয় আলো আমাকে এই সুযোগ করে দিয়েছে। কয়েকজন সাগরেদও জুটিয়ে নিয়েছি। এই যেমন আজ হারেক মাহমুদকে লেলিয়ে দিয়েছিলাম সাকিবের বিরুদ্ধে (সাকিবকে বারবার আমি নাজেহাল করার চেষ্টা করলে তা শোভনও হয় না)। ওকে বলেছিলাম, দলের স্লো ব্যাটিং করা নিয়ে সাকিবকে ধুয়ে ফেলতে। অবশ্য খেলার সময় আগ্রাসী ব্যাটিং করে উইকেট পড়ে গেলেও সাকিবকে ধরা হত। তখন বলা হত: বিশ্বকাপের দুই লো স্কোরের কথা কি তারা ভুলে গেছেন? কী দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের? সম্মানজনক স্কোর করাটাই তো মূল লক্ষ্য হওয়ার কথা ছিল!

আমাদের সাংবাদিকতার ধরণ আপনারা এবারে নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারছেন! আমরা ওই রকমই।

জানি, সাকিবের সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়ে যাবে। হয়তো তার সাক্ষাৎকারও নেব। আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি। তৈরি করছি কঠিন কঠিন প্রশ্নের তালিকা। আর সাথে এটাও ঠিক করে রেখেছি, সাকিব যদি আমাকে ক্রিকেট জ্ঞান জাহির করতে আসে, আমি তাকে মুখের ওপরে বলবো, “আমনে আমাত্তে বেশি বুজেন?”

%d bloggers like this: