Archive for April 12th, 2011

April 12, 2011

গ্রামীণ করমর্দন উদ্বোধন করলেন হিলারি ক্লিনটন

নিজস্ব মতিবেদক

ড. ইউনূসের দুর্দিনে ‘ফ্রেন্ডস অফ গ্রামীণ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেসব সুশীল তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন তাদের করের বোঝা থেতে মুক্তি দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ড. ইউনূস। গতকাল সোমবার মিরপুরস্থ গ্রামীণ ব্যাংক ভবন প্রাঙ্গনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হল নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসের নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ করমর্দন’ এর। ড. ইউনূসের বান্ধবী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন লাল ফিতা কেটে গ্রামীণ করমর্দন উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রসচিব রবার্ট ব্লেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ইউনূস ও গ্রামীন ব্যাংক বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে বিমান হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। তার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ইউনূস বিষয়ে তড়িঘড়ি করে একটি সমাধানে আসে।

সরকারের পুটুর দৈর্ঘ্য মেপে দেখাচ্ছেন ড. ইউনূস

সরকারের সমাধান অনুযায়ী, গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৮৫ সাল থেকে যে কর অব্যাহতি পেয়ে আসছিল এবারে তার সাথে যোগ হয়েছে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সরকার আজ থেকে ড. ইউনূসের সমুদয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর কর মওকুফ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ড. ইউনূসের নামে ৫৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আমানত হিসাবে জমা রয়েছে। টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজস্ব বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউনূসের টাকার পুটু মারবার কোন ইচ্ছা সরকারের নাই। সরকার এখন নিজের পুটু বাঁচাতে তৎপর।

ড. ইউনূসের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির ওপর কর মওকুফের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। উদ্বোধনী বক্তৃতায়  তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছিল। তারা দেশের সম্মানিত মানুষ ড. ইউনূসকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বের করে দিয়েছিল। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা অব্যাহত ছিল। উদাহরণস্বরূপ তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে তার জাকুজিওলা বাড়ি থেকে উৎখাত এবং তার দুই শিশু তারেক জিয়া ও কোকো জিয়াকে মেরে পুটু ফাটিয়ে দেয়ার কথা বলেন।

গ্রামীণ করমর্দনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণের সুহৃদদের করের বোঝা মর্দন করার লক্ষ্যেই গ্রামীণ করমর্দনের জন্ম। গ্রামীণ করমর্দনের কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন, দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর নামে অসংখ্য অ্যাকাউন্ট খোলা হবে। এই অ্যাকাউন্টগুলোয় টাকা জমা রাখবেন গ্রামীনের সুহৃদরা। অ্যাকাউন্টগুলো যেহেতু ড. ইউনূসের নামে তাই অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থের জন্য সরকারকে কোন কর পরিশোধ করতে হবে না। তবে সার্ভিস চার্জ হিসাবে জমার পরিমাণের উপর নির্ভর করে বাৎসরিক ১০% – ৪৫% সুদ দিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে গ্রামীণ করমর্দনের উদ্বোধনের খবরে ড. ইউনূসের ভাবমূর্তি রক্ষার নিয়োজিত ফেসবুকযোদ্ধারা পরস্পরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা একে অন্যের ওয়ালে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ করমর্দন সম্পর্কে স্তুতিসূচক বাক্য লিখে ও পরস্পরকে পোক করে আনন্দ প্রকাশ করেন।

April 12, 2011

ফ্রান্সে বোরকার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর

মতিকণ্ঠ ডেস্ক

ফ্রান্সে জনসম্মুখে পুরো মুখ ঢাকা নেকাব ও বোরকা নিষিদ্ধের আইন গতকাল সোমবার কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে ফ্রান্সে কেউ মুখ ঢাকা নেকাব ও বোরকা পরলে তাকে ১৫০ ইউরো জরিমানা করা হবে। পাশাপাশি ফরাসি নাগরিকত্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে আইন ভঙ্গকারীকে বিশেষ প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে।

নতুন আইন অনুযায়ী, পুলিশ জোর করে কাউকে নেকাব খুলতে বাধ্য করতে পারবে না। কেবল জরিমানা করতে পারবে। নেকাব পরা কোনো নারী তার ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকলে তিনি জরিমানার আওতায় পড়বেন না। বোরকাবৃত ব্যক্তিটি পুরুষ না নারী তা কেবলমাত্র পুটু দেখেই নির্ধারণ করা সম্ভব। এ কারণে নিরাপত্তার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখার জন্য বোরকা উল্টিয়ে পুটু পরীক্ষা করে দেখবার এখতিয়ার থাকবে পুলিশের।

প্লেবুরকার ফটোসেশনে আঞ্জুমান আরা জলি

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসাবে বোরকা নিষিদ্ধের আইন বাস্তবায়ন করল ফ্রান্স। এ আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার প্যারিসে বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় পুলিশ নেকাব পরা দুই নারীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে ফ্রান্সে মুখ ঢাকা নেকাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী হলিউড তারকা আঞ্জুমান আরা জলি। তিনি আজ প্লেবুরকার পরবর্তী  সংখ্যার প্রচ্ছদের জন্য ফটোসেশনে অংশ নেবার ফাঁকে মতিকণ্ঠে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বোরকা একটি ইবাদত, সালাত যেমন ইবাদত। এটি আল্লাহর নির্দেশ।’ তার মতে, বোরকা ব্যক্তিত্বকে খাটো নয় বরং বড় করে। জলি বলেন, অনেকে দাবি করে বোরকা নারীর চিন্তা-ভাবনাকে সংকুচিত করে দেয় এবং এটি নারীদের ওপর পুরুষের চাপিয়ে দেয়া নিপীড়ন। কিন্তু আমি বলব, বোরকা মুসলিম নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। তাই এটি নিষিদ্ধ করা হবে ব্যক্তি অধিকারে হস্তক্ষেপের সামিল।

এদিকে ফ্রান্সে বোরকা নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার বাদ জুম্মা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক জনসমাবেশের ডাক দিয়েছেন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী। সমাবেশ শেষে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে তিনি উলঙ্গ হবেন বলে জানা গেছে। ‘ফ্রান্সে বোরকা নিষিদ্ধ করলে আপনার সমস্যা কী?’ মতিবেদকের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব প্রশ্নের জবাবে ‘আমনে আমাত্তে বেশি বুজেন?’ বললে মতিকণ্ঠের পাঠকেরা মাইন্ড করে। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম।

%d bloggers like this: