যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব মতিবেদক

যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে ১০টায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেন। ১৪ দিনের এ সফরে তিনি যুক্তরাজ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রেও যাবেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭ মে রওনা হয়ে ২৯ মে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল মতিকণ্ঠকে বলেন, যুক্তরাজ্য সফরকালে খালেদা জিয়া তার শিশুপুত্র বিএনপির জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের এডমন্টনের বিলাসবহুল বাসভবনে উঠবেন। তারেক রহমান বর্তমানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকর্মে নিয়োজিত আছেন। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি গণতান্ত্রিক, আর্থ-সামাজিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে তাকে তার জাকুজিওয়ালা বাড়ি থেকে উৎখাত ও তার দুই শিশুপুত্র তারেক জিয়া ও কোকো জিয়াকে মেরে পুটু ফাটিয়ে দেবার বিচার চাইবেন।

যুক্তরাজ্য সফর শেষে ২১ মে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে ক্ষমতায় গেলে হিলারি ক্লিনটনের বন্ধু ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পুনরায় অধিষ্ঠিত করাসহ প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করে ড. ইউনূসকে আজীবন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করার আশ্বাস দেবেন তিনি। হিলারি ক্লিনটন চাইলে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ড. ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট হবার জন্য অনুরোধ করতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই দিন যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন চেয়ারপারসনের অপর উপদেষ্টা শফিক রেহমান। বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ২১ মের পর খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হবেন। প্রেসসচিব মারুফ কামালের আজ রবিবার যাওয়ার কথা রয়েছে। তারেক রহমান পুনরায় গুলি করতে পারেন ভেবে এ সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গী হননি মোসাদ্দেক আলী ফালু।

খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে গেলেও তাঁদের টার্মিনালে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় তাঁকে বিদায় জানাতে আসা নেতা-কর্মীরা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের সামনে মিছিল করেন।

পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচার আওয়ামীলীগ সরকারের নেই। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে খালেদা জিয়াকে যে সম্মান জানানো উচিত, তা দেখানো হয়নি। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যদের ভিআইপি লাউঞ্জে ঢুকতে না দিয়ে রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। প্রখর রোদে বিমানবন্দরে উপস্থিত বিএনপির সংসদ সদস্যদের পুটু শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে বিএনপির সংসদ সদস্যদের রূহ আফজা দিয়ে শুকনা পুটু ভেজাতে দেখা গেছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: