Archive for January 11th, 2012

January 11, 2012

এক-এগারোর পাঁচ বছর পুর্তি আজ

বিশেষ মতিবেদক

আজ গৌরবদীপ্ত এক-এগারোর পঞ্চম বর্ষপুর্তি। ২০০৭ সালের এই দিনে কারওয়ানবাজার সমর্থিত সেনা সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। কিন্তু কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতিবীদের চাপে তারা রাষ্ট্রক্ষমতা পুনরায় নষ্ট রাজনীতিবীদদের হাতে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। কারওয়ানবাজারের চাপে পরবর্তীতে এই দিনটিকে জাতীয় দখল দিবস ঘোষনা করা হয়।

জাতীয় দখল দিবস উপলক্ষে এই দিনটিতে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মুঠোফোনে খুদেবার্তা প্রেরন করেছেন কারওয়ানবাজারের সর্দার মতিচুর রহমান।

কারওয়ানবাজারে এই দিনটি উদযাপনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান কারওয়ানবাজারের উপসর্দার আমিষুল হক। তিনি বলেন, ছয় হাজার গাড়ি নিয়ে কারওয়ানবাজারের আশেপাশের রাস্তায় অবস্থান নিবেন এক-এগারো সমর্থক খেটে খাওয়া জনতা গোষ্ঠী। কারওয়ানবাজারের কার্যালয়ের সামনে বক্তৃতার জন্য মঞ্চ গঠন, মাইক ফিট করা ও উপস্থিত এক-এগারো সমর্থকদের জন্য নাস্তাপানির আয়োজনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে কারওয়ানবাজার বন্ধুসভার ছেলেমেয়েরা।

আজ সারাদেশে শিশু-কিশোরদের জন্য সেনাশাসন অলিম্পিয়াড আয়োজন করছে কারওয়ানবাজার। এছাড়া মেরিল-কারওয়ানবাজার পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীরা নাচ-গান-কৌতুক পরিবেশন করবেন বলে জানিয়েছেন আমিষুল হক। কারওয়ানবাজার সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত লেখিকা অদীতি ফাল্গুনী বলেন, জাতীয় দখল দিবস নিয়ে তিনি ও তার বন্ধু এবাদুর রহমান যৌথভাবে একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা করছেন। প্রাক্তন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের কন্যা সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন এই চলচ্চিত্রটি নির্দেশনা করতে সম্মত হয়েছেন। এই চলচ্চিত্রের আকর্ষনীয় দিক হচ্ছে, এতে নাম ভুমিকায় অভিনয় করবেন কারওয়ানবাজারের সর্দার মতিচুর রহমান নিজেই। মতিচুর রহমান এ জন্য নিয়মিত পারসোনা এডামসে যাচ্ছেন ও স্পা করছেন বলে অদীতি ফাল্গুনী মতিবেদককে জানান।

মতিচুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মতিবেদককে বলেন, বাঙালি নিজেকে শাসনের জন্য যোগ্য হয়ে উঠেনি এখনও। আইয়ুব খান একজন আদর্শ শাসক ছিলেন। ইয়াহিয়া খানও কড়া শাসক ছিলেন। জিয়াউর রহমান অত্যন্ত ভালো শাসক ছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারাত্মক শাসক ছিলেন। কিন্তু এই ধারাবাহিকতা আমরা রক্ষা করতে পারলাম না। গনতন্ত্র গনতন্ত্র করে আমাদের উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করা হলো। হোয়াই দিস কোলাভেরি কোলাভেরি কোলাভেরি ডি?

মতিচুর রহমান বলেন, ২০০৭ সালে আমি তৎকালীন সেনাপ্রধানকে মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠিয়ে বলেছিলাম, আভি নাহি তো কাভি নাহি। তিনি শুরুতে রাজি হননি। পরে আমি কারওয়ানবাজারের ইংরেজি সর্দার মহাফুজ এনামকে সঙ্গে নিয়ে তার সাথে দেখা করি। বলি, নমিয়া তোমারে যেন শিরোধার্য করি, সবিনয়ে তব কার্যে যেন নাহি ডরি, কভু কারে। তিনি তখন বলেন, শুধু তোমার বানী নয় গো হে বন্ধু হে প্রিয়, মাঝে মাঝে প্রানে তোমার পরশখানি দিও। তারপর তিনি আরেকজন ছোট জেনারেলকে ডেকে বলেন, বন্দুক বাইর কর, টেংক বাইর কর। আক্রোমোওওওওওওন!

এক-এগারোর স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন মতিচুর রহমান। তিনি বলেন, কারওয়ানবাজার সবসময়ই ডান্ডাওলার পক্ষে। যার ডান্ডা নাই, তার মানডা নাই। এই দেশে দরকার ডান্ডার সরকার। গনতন্ত্র বড়লোকের জিনিস। আমরা গরীব। আমাদের দেশের মানুষ গনতন্ত্র দিয়ে কি করবে? গনতন্ত্র দিয়ে কি পেটে ভাত হয়? পুটুতে কাপড় হয়? আইয়ুব-ইয়াহিয়া-জিয়া-এরশাদের দেখান পথে চলাই আমাদের জন্য নিরাপদ। কিন্তু কতিপয় বিপথগামী রাজনীতিবীদ এই কাজে সবসময় বাগড়া দিয়ে আসছে। এক-এগারো এদের দমনের জন্যই অপরিহার্য ছিল।

মতিচুর রহমান বলেন, এক-এগারো না এলে দীনবন্ধু তারেক রহমানকে বৃহত্তর জামাতে ইসলামের বিএনপি শাখার বিদ্রোহীরাই পুটু মেরে কুয়াকাটা বানিয়ে দিত। এক-এগারোর কারনেই সে এখনও বেচে আছে, লন্ডনে পার্টি-শার্টি করে বেড়াতে পারছে।

মাইনাস টু ফর্মুলা নিয়ে মতিচুর রহমান বলেন, খেলার সাথে রাজনীতি মিশান ঠিক নয়।

আবারও এক-এগারোর পুনরাবৃত্তি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, আমরা আমরাই তো?

January 11, 2012

দুই প্রানীবিদ ও এক দার্শনিককে হারালো জাতি: জাবি উপাচার্য

বিশেষ মতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির দুদু মিঞা বলেছেন, উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রছাত্রীদের জ্বালাও-পোড়াওয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপার সম্ভাবনাময় তিন ছাত্রকে আজীবন বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে উপাচার্য দুদু মিঞা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে একটু আধটু মারপিট মদ্যপান মাগীবাজী হয়ই। সবাই করে। আমরাও করেছি। কিন্তু তার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার মত বড় শাস্তি কেন দিতে হবে?

দুদু মিঞা বলেন, তাদের একমাত্র অপরাধ তারা ছাত্রলীগ করে। সব মাছই গু খায় কিন্তু দোষ পড়ে টাকী মাছের উপর।

নিহত জুবায়ের আহমেদ সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, সে ছিল একটি অভিশাপ। সে নিজেও ছিল ছাত্রলীগের একটি বড় সন্ত্রাসী। সে সবসময় একটি পানির গ্যালনে করে মদ সঙ্গে রাখতো। উপাচার্যের বাড়ির বারান্দায় পিশাব করত। কামান বন্দুক নিয়ে সাধারন ছাত্রদের দৌড়ানি দিত। অজ্ঞাত পরিচয় কিছু লোক তাকে সেদিন আচমকা ধরে ছুরি মারে। উপাচার্য বলেন, সামান্য ছুরির ঘায়ে সে মুর্ছা যায়। মস্তানি করতে গেলে কাঠবডি নয়, ইস্টিলের বডি থাকতে হবে।

শরীফ এনামুল কবির বলেন, কতিপয় বেয়াদব ছাত্রছাত্রী জুবায়েরের মৃত্যুর পর তুমুল ভাংচুর গন্ডগোল করে। ফলে দুইজন অপার সম্ভাবনাময় প্রানীবিদ ও একজন কালজয়ী দার্শনিককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হয়।

দুদু মিঞা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃনা করতে হবে। খুনীকে নয়, খুনকে ঘৃনা করতে হবে।

তিনি মতিবেদকের হাতে একটা গোলাপ ফুল দিয়ে বলেন, মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি।

%d bloggers like this: