পাঠকের প্রতি বিষোদগার করলেন মকসুদ

নিজস্ব মতিবেদক

কলাম পাঠকের প্রতি বিষোদগার করেছেন উপমহাদেশের বিখ্যেত ইতিহাসবীদ, কলামিষ্ট ও গান্ধীবাদী আন্দোলনের প্রবাদ পুরুষ সৈয়দ আবুল মকসুদ।

আজ এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আবুল মকসুদ এ বিষোদগার করেন।

মকসুদ বলেন, ষাটের দশকের প্রথম থেকে ছিলাম সাহিত্যপত্র, লিটল ম্যাগাজিন ও দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকীর লেখক। সত্তর ও আশির দশকে সংবাদ, দৈনিক বাংলা ও ইত্তেফাক-এর সাহিত্যের পাতার আমি ছিলাম প্রধান লেখকদের একজন। আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক নিবন্ধ লেখা শুরু করি। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে আমি কারওয়ানবাজারের সর্দার মতিচুর রহমানের পতাকা তলে যোগ দেই। সেই থেকে আমি কারওয়ানবাজারের সংগে আছি।

আবেগঘন কণ্ঠে মকসুদ বলেন, অথচ লোকজন আমায় কুন খাতিরই করে না। মাঝেমধ্যে দূর থেকে পাঠক তার বাড়ির কলাটা-মূলাটা নিয়ে এসে আমায় খুশি করতে চায়। কিছু খানকির পুলা পাঠক আতপ চাল ও পাটালি গুড় দিয়ে মেনেজ করতে চায়। কেউ নিয়ে আসে গোটা চারেক নারিকেল। আপনারাই বলেন, বাজারে কি বড় সাইজের দেশী মুরগী পাওয়া যায় না? একটা নধর খাসি কিনে নিয়ে আসতে পারত না তারা? মজফফরপুরের লিচু একশ বা দুইশটা কিনে আনতে সমস্যা কি?

মকসুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার কলাম পাঠকগুনো সকলেই অভিশাপ।

প্রতিবাদে মুখর বাংলার গান্ধী

স্মৃতি চারন করে মকসুদ বলেন, একদিন ইংরেজি সাপ্তাহিক First News-এর সম্পাদক ও ডেইলি স্টার-এর কলামিস্ট মোহাম্মদ বদরুল আহসানের সঙ্গে নরসিংদী থেকে ফিরছিলাম। রাস্তার পাশে এক গ্রামের বাজারে সবজি কিনতে যাই। বদরুল কিনলেন বিভিন্ন তরিতরকারি। আমি দুই আঁটি লাউশাক। রাস্তার ওপার থেকে দুই যুবক দৌড়ে এলেন। একজন বললেন, সার, আমি আপনার কলামের পাঠক। শাকের দাম আমি দিমু। এই বলে সে বিক্রেতাকে ২০ টেকা দিয়ে আমায় শাক কিনে দিতে চাইল। আমি তাকে জুতা খুলে মারতে গেলাম। বললাম, খানকির পুলা তুই শাকের দাম দিতে চাস কেন? পাশেই ঝাকার মধ্যে বড় বড় দেশী মুরগী তর চক্ষে পড়ে না? বদরুল আহসান আমায় থামালেন। বললেন, মকসুদ তুই রাস্তায় মারামারির বদভ্যাস তেগ কর। তারপর আমি দুই আটি লাউশাক নিয়ে ঘরে ফিরতে বাধ্য হলাম।

উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উত্তেজিত হয়ে মকসুদ বলেন, মুরগী বা খাসি উপহার না দিক, শান্তিতে পিশাব ত করতে দিবে? টাঙ্গাইল থেকে ফিরছিলাম। প্রাকৃতিক প্রয়োজনে রাস্তার পাশে ফাঁকা জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছি। দেখি পিঠের তিন-চার হাত দূরে এক ভদ্রলোক অপেক্ষমাণ। বললেন, তিনি আমার কলাম পড়েন। পীড়াপীড়ি করছিলেন তাঁর বাড়িতে একটু যেতে। যেতেই হলো। তাঁর উঠানে ছোট্ট একটি গাছে এবারই প্রথম তিনটে লেবু ধরেছে। দুটো লেবু ছিঁড়ে আমার হাতে দিলেন। আমি বললাম, দুইটা লেবুর জন্য আমায় মাঝপিশাব থেকে তুলে আনলি খানকির পুলা? সে হাসে। আপনারাই বিচার করুন, এ কেমন অপমান?

পাঠককে হুশিয়ার করে দিয়ে মকসুদ বলেন, লাইনে আসুন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: