বৃহত্তর জামায়াতে কোন্দলের আশংকা

নিজস্ব মতিবেদক

বৃহত্তর জামায়াতের মাঝে কোন্দলের আশংকা দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছে। মতিকণ্ঠের কাছে এমনই পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন বৃহত্তর জামায়াতের বিভিন্ন শাখার শীর্ষ নেতৃত্ব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, বৃহত্তর জামায়াতের ঐক্যে ফাটল ধরেছে। যে কোন মুহুর্তে দেখা দিতে পারে কোন্দল, সংঘাত ও হানাহানি।

বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামীর খানকির পোলায়ে সালাফিয়ে আমীর এবং ইসলাম ও জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ‘বংগ ছুছুন্দর’ মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর এ কোন্দল আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান বৃহত্তর জামায়াতের বিএনপি শাখার স্থায়ী কমিটির এক সদস্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৃহত্তর জামায়াতের বিএনপি শাখার এক নেতা বলেন, কিছুদিন আগে গুলশানে মহিলা আমীরের কার্যালয়ে আমরা মিটিং করতে গিয়েছিলাম। ঘরে ঢুকার আগে মেডামের বডিগাড এসে আমাদের চেগা করাইয়া আগা পাছা তলা সকলই মেটাল ডিকটেটর দিয়া তন্ন তন্ন করিয়া তল্লাশী করল। তারপর মেডাম আসিয়া বললেন, আমনেরা সকলে মুবাইল জমা দিয়া অপিসে ঢুকেন। মুবাইল নিয়া ঢুকলে বিএনপি হতে বহিষ্কার করিয়া দিব।

কান্না দমন করে বিএনপি শাখার আরেক শীর্ষ নেতা বলেন, বৃহত্তর জামায়াতে ইনসাফ নাই। দশজন ঐদিন মেডামের অপিসে ঢুকলাম, দশখানি মুবাইল জমা দিলাম। কিন্তু ফিরত আসল নয়খানি মুবাইল। আমার বহুমুল্য আইফুন মুবাইলটি ফিরত না পাইয়া মেডামকে জিজ্ঞাসা করলাম, মেডাম আমার ফুনখানি কুথায়? মেডাম বললেন, আপনাদের ফুনের ১০% হাওয়া ভবন খাতে চান্দা হিসাবে জমা নেওয়া হইছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবেগঘন কণ্ঠে এই নেতা বলেন, সারা জীবন মাথার ঘাম পুটুতে ফেলে বিএনপি করলাম, পুলিশের লাঠি খাইলাম, ডিবির ডিম খাইলাম, কিন্তু মহিলা আমীর হাওয়া ভবনের উছিলায় আমার ফুনখানি মেরে দিলেন। বাংলার কালিতে আগুন জ্বালান সাংবাদিক বংগ ছুছুন্দর মাহমুদুর রহমানও নাই যে এই ঘটনার প্রতিবাদে কিছু লিখালিখি করবে।

দেহ আছে রক্ষী নাই

এদিকে বিএনপি শাখার কারারুদ্ধ নেতা কর্মীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে অসন্তোষ। আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মওদুদ, বুলু ও এনি, কিন্তু দলের তেগী নেতা কর্মীরা এখনও কারাগারে। তাদের ছাড়িয়ে নিতে তেমন কোন উদ্যোগও নিচ্ছে না বিএনপি শাখা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ নেতা বলেন, ফেন্টাষ্টিক ফাইভের অত্যাচার সহ্য করে রাজনীতী করি আমি, আর জামিনে মুক্তি পায় মওদুদ বুলু এনি। বিএনপি শাখায় ইনসাফ নাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক নেতা বলেন, মওদুদ জামিনে ছাড়া পাইয়া হাসতে হাসতে আমায় বলল, তুই থাক আমি যাই। কাজী মারুফের ‘দেহরক্ষী’ মুক্তি পাইছে, নায়িকা কেপ্টেন ববি, দেখিয়া আসি। জেলে তুর সংগে দেখা করতে আসিলে সিনেমার গল্পটা বলব, ডন্ট ওয়রী বি হেপী।

তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক নেতা কর্মী বলেন, ককটেল মারি আমরা, রবার বুলেট খাই আমরা, আর দেহরক্ষী দেখে মওদুদ। আমরা জেল হতে বাইর হইতে পারলে এলডিপিতে যোগ দিব। বিএনপি শাখায় আর না।

এদিকে বিএনপির কারাবন্দী নেতা কর্মীদের ‘পেছনের দরজা প্রশস্ত করার’ পরামর্শ দিয়ে মহিলা আমীরের দুদু উপদেষ্টা শামসুজ্জামান বলেছেন, আপনাদের চাওয়া পাওয়া থাকতেই পারে। আপাতত পেছনের দরজা প্রশস্ত করুন, পরিস্থিতি উপভোগ করুন।

‘দেহরক্ষী’ সিনেমার উচ্ছসিত প্রশংসা করে দুদু উপদেষ্টা বলেন, কেপ্টেন ববি অদ্ভুদ।

2 Comments to “বৃহত্তর জামায়াতে কোন্দলের আশংকা”

  1. সেইরাম হইছে ভাই,চালিয়ে যান।

  2. নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবেগঘন কণ্ঠে এই নেতা বলেন, সারা জীবন মাথার ঘাম পুটুতে ফেলে বিএনপি করলাম, পুলিশের লাঠি খাইলাম, ডিবির ডিম খাইলাম,
    এইখানে ডিবির ডিম পুটুতে ঢুকাইলাম হইলে ভাল হইত, তয় পুরাটা চরম হইসে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: