Archive for September 16th, 2014

September 16, 2014

মন্ত্রী নাহিদের উপর নাখোশ পুলিশ পরিদর্শক বৃন্দ

নিজস্ব মতিবেদক

সিপিবির সাবেক নেতা ও বর্তমানে ফেসিবাদী বাকশালের শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের উপর নাখোশ হয়ে আছেন ঢাকা মেট্রপলটন পুলিশ পরিদর্শক বৃন্দ।

মংগলবার সন্ধায় ঢাকা মেট্রপলটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা মেট্রপলটন পুলিশের ৫৭ জন পরিদর্শক।

ঢাকা মেট্রপলটন পুলিশের গন মাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমানের সংগে যোগাযোগ করলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জীবনটাই একটা পরীক্ষা। আর আমাদিগের হাতে পাওয়া তথ্য মতে আমাদিগের পরিদর্শকরা জীবীত। কাজেই তারা জীবীত কিনা, এই পরীক্ষার মাধ্যমে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মতিকণ্ঠের প্রশ্নের জবাবে মাসুদ ডিসি বলেন, এ পরীক্ষায় আইন-কানুন, কায়দা-কৌশল, আচার-বেবহার, তমিজ-তোয়াজ ইত্যাদি সহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করা হবে। পাশ করতে পারলে পরিদর্শকদের ওসি বানান হবে। ফেল করলেও ওসি বানান হবে, তবে তাতে ওসি বনার বেয় বৃদ্ধি পাবে।


আসল কাজ বাদ দিয়ে নাটকে বেস্ত নাহিদ

এদিকে পরীক্ষার পর পরিদর্শকদের কয়েক জনের সংগে যোগাযোগ করা হলে তারা মতিকণ্ঠের কাছে মন্ত্রী নাহিদের প্রতি বেপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিদর্শক বলেন, আমাদিগের আজ পরীক্ষা। গতকাল রাত হতে একটু পর পর ফেসবুক খুলিয়া পেজ ঘাটতেছি, কিন্তু কোথাও কুন প্রশ্ন ফাস হয় নাই। এতেই প্রমানিত হয়, মন্ত্রী নাহিদ সঠিক ভাবে তার দায়িত্ব পালন করতেছে না।

আরেক পরিদর্শক মন্ত্রী নাহিদকে ‘সালা ঘোচু’ গালি দিয়ে গালি প্রকাশ করার অনুরধ ও নাম প্রকাশ না করার অনুরধ জানিয়ে বলেন, আমাদিগের আজ পরীক্ষা, অতছ গত কয়েক দিন ধরিয়া টাকলা নাহিদ বাংলাবাজারে নাটকের রিহার্সাল দিছে। আরে সালা ঘোচু তুই আগে কই পরীক্ষার প্রশ্ন সামলাবি, তা না করিয়া তুই বাংলা বাজারে এক মাস আগে নটিস দিয়া আকস্মিক অভিযানের নাটক করিস কেনে?

নাম গোপন রাখার শর্তে আরেক পরিদর্শক বলেন, আমরার পরীক্ষা অত্যান্ত খারাপ হইছে। কুন প্রশ্ন কমন পড়ে নাই। প্রশ্ন আইছে, আইন কারে বলে? আইনের হাত কত লম্বা? আইন কার হাতে থাকে? আমরা আসমান হতে মাটিতে পড়ছি। আমি লিখছি, থানার ওসি ও এলাকার সরকারী নেতার মুখের কথাই আইন। আইনের হাত অনেক লম্বা। আর আইন এত গরম যে কারও হাতেই থাকে না, এই কারনেই কুথাও ভাল মানুষের হাতে বদ মানুষ পিটানী খাইলে আমরা গিয়া বলি, আইন নিজের হাতে তুলিয়া লইবেন না।

ঢাকা মেট্রপলটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ রত আরও কয়েকজন পরিদর্শক বলেন, পরীক্ষা হইছে যেমন তেমন, গল্ডেন এ প্লাস না পাইলে মন্ত্রী নাহিদের কার্যালয় ঘেরাও দিব।

বিক্ষোভ রত এক পুলিশ পরিদর্শক বলেন, আমার পুলা এইবার ইন্টার দিল। ফেসবুকে সব প্রশ্ন সে আগে আগে পাইছে, গল্ডেন এ প্লাসও পাইছে। এখন আমি তার বাপ হইয়া যদি পরীক্ষায় গল্ডেন না পাই, বাসায় গিয়া মুখ দেখাব কি করিয়া?

এ বেপারে মন্ত্রী নাহিদের সংগে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষা বেবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে, এখন ঠোলারাও পরীক্ষা দেয়। এখন তারা ফেসবুকে ফাস হওয়া প্রশ্নের খোজে লেপটপ চার্জ দেয়। অতছ আমরার আমলে ঠোলারা শুধু লাঠি চার্জ করত।

ভবিষ্যতে ঢাকা মেট্রপলটন পুলিশ কার্যালয়ের পরীক্ষা হলে ‘আকস্মিক অভিযান’ চালানর অংগীকার করে নাহিদ মন্ত্রী বলেন, পুলিশ কমিশনারের সংগে এই আকস্মিক অভিযান নিয়া আমার আলাপ হইছে। তারিখ নিয়া এখনও কথাবার্তা চলতেছে। এই পরীক্ষা হইছে যেমন তেমন, আগামী পরীক্ষার প্রশ্ন সময় মত ফেসবুকে পাওয়া যাইবে।

September 16, 2014

অতিরিক্ত সত্য সাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর: ফখা

সিংগাপুর মতিনিধি

সাম্প্রতিক পুস্তক ‘বাংলাদেশ: ইমারজেন্সী এন্ড দি আফটারমেথ: ২০০৭-২০০৮’ রচনার অপরাধে বাকশাল আমলের পোষ্ট মাষ্টার জেনারেল, একাত্তরের রেম্ব জেনারেল জিয়ার উপ প্রধান মন্ত্রী, সাবেক স্বৈরাচার ও পল্লীবন্ধু জেনারেল এরশাদের উপ রাস্ট্র পতি, বৃহত্তর জামায়াতের আইনমন্ত্রী ও বিএনপি শাখার উকিলে আমীর রাজনৈতিক পর্যটক বেরিষ্টার আল্লামা মওদুদ আহমদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিএনপি শাখার ভাঁড়প্রাপ্ত নায়েবে আমীর, জাতীয়তাবাদী শক্তির ‘কমপ্লান বয়’, লনডনে পলাতক চিকিতসাধীন আওলাদে আমীর বড় গুণ্ডে কতৃক ‘হাইড এন্ড সিক’ গালিতে ভুষিত ও ঈদুল কতলের টেলেন্ট হান্ট প্রতিযোগীতায় ‘ফ্লেয়ার এন্ড লাবলি’ খেতাবে সমাদৃত মির্জা বাড়ির বড় গৌরব আল্লামা মির্জা ফখরুল ইসলাম আগুনগীর ওরফে ফখা ইবনে চখা।

আজ সিংগাপুরে নিজ হোটেলের আরাম দায়ক বিলাস বহুল কক্ষে আয়জিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফখা ইবনে চখা বলেন, অতিরিক্ত সত্য সাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই আগুনগীর বলেন, বাড়িতে সবাইরে কইছি সারাদিন বিএনপি শাখার জন্য গলাবাজি করিয়া করিয়া আমার গলায় গলগন্ড হইছে, চিকিতসার জন্য সিংগাপুর যাই। কিন্তু বাস্তবে সিংগাপুরে আইছি সিংগাপুরের আইএসআই শাখার আমীর মেজর জেনারেল আকরাম খান লাহরীর পরামর্শ লইতে। এখন যদি মুখ খুলি তাহইলে তুমরা সাংবাদিকের দল আবার এইসব লইয়া তদন্ত শুরু করিয়া দিবা। তাই আজ সকল বিবৃতি লিখিত।


বাজারে চাহিদার অতিরিক্ত সত্য আসিয়া পড়ছে

লিখিত বিবৃতিতে মির্জা বাড়ির বড় গৌরব বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতী লইয়া পড়ালিখা করিয়াছি। কিছুদিন ঐ গন্ডগল পুর্ন প্রতিষ্ঠানে মাষ্টারীও করিয়াছি। রাজনীতী যে কত পেচের হইতে পারে, তাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেখিয়াই শিখিয়াছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতী ছাড়া দ্বীতিয় যে বিষয়টি আমি শিখিয়াছি তাহা হল অর্থনীতী। অর্থনীতী বলে যে চাহিদার তুলনায় কুন জিনিসের সরবরাহ বাজারে বাড়িয়া গেলে সে জিনিসের দাম কমিয়া যায়। যেমন আমাদের দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় মনিরের সরবরাহ বেশী, তাই হরতাল ডাকিয়া দশ বারটা মনির পুড়াইয়া দিলে তেমন কুন ক্ষতি হয় না।

আবেগঘন ফন্টে ফ্লেয়ার এন্ড লাবলি বলেন, বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনায় বেশী সত্য আসিয়া পড়ছে। কিছুদিন পুর্বে আমার ফুফা আজগুবি কথক খন্দকার ওরফে এ কে খন্দকার একটি পুস্তক রচনা করিয়া বাজারে বিপুল পরিমান সত্য ঢুকাইয়া দিছে। ঐ পুস্তকের গোড়ায় লিখা ছিল শেখ মুজিব ৭ মার্চ বড় গুণ্ডের ঐতিহাসিক কারাবন্দী দিবসের বক্তিতায় জয় পাকিস্তান কইছিল। এই রকম আগুন গরম সত্য হাতে পাইয়া আমাদিগের মাথা ও পুটু উভয়ই এত গরম হইয়া গেল যে বাকি বই আর পড়ার সময় পাই নাই। আমরা সবাইরে কইলাম যে এই পুস্তকের কথা ১১০% সত্য। কিন্তু দুইদিন পরে কাচা বাজারে গিয়া শুনি এক মুরগী বেপারী আরেক মুরগী বেপারীরে কইতেছে, ঐ পুস্তকে লিখা আছে যে একাত্তরের রেম্ব মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘষক নহে। খন্দকার ফুফায় নাকি লিখছে, আরে জিয়া থা কৌন হরিদাস পাল যে ও আজাদী কা ঘষক বনেগা?

হুহু করে কেদে উঠে পরবর্তী পেরায় জাতীয়তাবাদী শক্তির কমপ্লান বয় বলেন, এই সত্য লইয়া সাংবাদিকের দল আমায় এত পেরেশানীতে ফালাইল যে একটু শান্তির খুজে সিংগাপুর আসিয়া পড়লাম। ঈদের পরে আন্দুলন হবে, আইএসআই এর যাকাতটাও লইয়া যাইব, সিংগাপুরে দুটু দিন ঘুরিব ফিরিব শপিং করিব। মস্তফা মার্কেট হতে একটি ড্রন কিনার অনেকদিনের ইচ্ছা।

অশ্রু মুছে পরবর্তী পেরায় মির্জা ফখরুল বলেন, কিন্তু সিংগাপুরে আসিয়াও শান্তি পাইলাম না। ইতিপুর্বে একবার সিংগাপুর আসিয়াছিলাম, তখনও সালা ঘোচুর ঘোচু মওদুদ একটি পুরাতন পুস্তকের বাড়ি দিয়া বিএনপি শাখারে শুয়াইয়া ফালাইছিল। এইবারও সে একই কাম করছে। আমি সিংগাপুর আইলেই মওদুদ ঘোচুর পুস্তক রচনার খাউজানী উঠে।

কান্নায় ভেংগে পড়ে পৃস্ঠা উল্টিয়ে পরের পাতায় আগুনগীর বলেন, এই পুস্তক ভর্তি আগুন আগুন সত্য কথা। কিরুপে বৃহত্তর জামায়াতের আলিংগনে ঢুকিয়া বিএনপি শাখা বরবাদ হইল, কিরুপে হাওয়া ভবনের চুরি ডাকাতির জন্য জনগন আমাদিগেরে দুরে ঠেলিয়া দিল, কিরুপে বড় গুণ্ডে ও ছুট গুণ্ডের পুটুর ছাল বাচাইতে গিয়া মাদারে গনতন্ত্র বিএনপি শাখার পুটুর ছাল ছালাইয়া লইলেন, এইরুপ অসংখ্য সত্য কথা এই পুস্তকের পাতায় পাতায় লিখা।

বুকে কিল মেরে পরবর্তী পেরায় ফখা বলেন, বাজারে এখন টাকায় আট মন সত্য কথা পাওয়া যাইতেছে। পরিস্থিতি এখন এমন খারাপ যে দুটু মিথ্যা কথা শুনার জন্য কারওয়ানবাজারের সর্দার মতিচুর রহমান আজমীর পকেটে টেকার বান্ডিল ঢুকাইতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের পর এক পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নিজের সংগ্রহে থাকা আজগুবি কথক খন্দকারের ‘১৯৭১: ভিতরে বাইরে’ বইটি অর্ধেক দামে বিক্রয় করার জন্য মির্জা ফখরুল চাপাচাপি শুরু করলে সাংবাদিকরা দ্রুত হোটেল কক্ষ তেগ করেন।

%d bloggers like this: