রিয়াজ নায়েবের পুটুর ঘা কুনদিন শুকাইবে না: ফারুকী

নিজস্ব মতিবেদক

বেক্তিগত অভিজ্ঞতার আলকে ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রতি তিব্র অনাস্থা জানিয়ে সেখানে চিকিতসাধীন বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামীর মুজাহিদগনের হাতে ফ্রেন্ডলী ফায়ারের নির্মম বলি বিএনপি শাখার নায়েবে খারেজি আল্লামা রিয়াজ রহমানকে সতর্ক করে দিয়ে বাংলার সেরা বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠান উপস্থাপকদের প্রভাবশালী সংগঠন ‘এশশিয়েশন অফ ইসলামী মিডিয়া পারসনালিটি’র বর্তমান আমীর বাংলার ডেভিড ধাওয়ান আল্লামা মস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, রিয়াজ নায়েব ভুল দলে যুগ দিয়া ভুল সময়ে ভুল জায়গায় গিয়া ভুল অংগে গুলি খাইয়া ভুল হাসপাতালে ভুল চিকিতসা লইতেছে। উহার পুটুর ঘা আর কুনদিন শুকাইবে না।

আজ এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বেক্তিগত অভিজ্ঞতার আলকে ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রতি এ অনাস্থা জ্ঞাপন করেন বাংলার ধাওয়ান।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুকী বলেন, গত বতসরের শেষ দিকে পাক ঘরে পিয়াজ কাটতে গিয়া আমার স্ত্রী মোসাম্মৎ তিশা বেগম তার হাত কাটিয়া ফেলে। তার চিক্কুর শুনিয়া আমি তারে গিয়া বললাম, রান্না বান্না ত কিছু কর না, সারা দিন মুখে সনু পাউডার দিয়া খালি শুটিঙ্গে ঘুর। হাত না কাটলে পিয়াজ কাটা শিখবা কিরুপে? সে তখন কানতে কানতে গালের মেকাপ ক্ষয় করিয়া আমায় বলল, মিনসে তুই ফতুয়া না দিয়া আমায় সিংগাপুরের হাসপাতালে লিয়ে চল। তখন আমার মনে হইল, এই সব হাত কাটা পাও কাটা সকলই অজুহাত মাত্র, তিশা বেগমের আসল মতলব রান্নার কামে বাং মারা। তাই সিংগাপুরে না লইয়া আমি তারে লইয়া গেলুম ইউনাইটেড হাসপাতালে।

আবেগঘন কণ্ঠে ফারুকী পরিচালক বলেন, ইউনাইটেডে পৌছাইয়া দেখি রাত্র হইয়া গেছে। সেখানে সকলে ঘুমায়। ইমাজেন্সী ওয়াডে দুটু শিয়াল একে অপরকে ডাকতেছে। আমি অনেক কস্টে একটা ডাক্তার খুজিয়া বাইর করিয়া বললাম, ডাক্তার ছাহেব আমার পত্নীর হাত সিলাইয়া দেও। ডাক্তার হারামজাদা হাই তুলিয়া বলল, পরস্ত্রীর হাত আমি ধরি না। ধর্মে নিষেদ আছে।

হুহু করে কেদে উঠে বাংলার ধাওয়ান বলেন, সারাটি জীবন সেকুলার ঘোচুদের সংগে লড়াই করিয়া বৃদ্ধ বয়সে ‘এশশিয়েশন অফ ইসলামী মিডিয়া পারসনালিটি’র আমীর হইলাম। আর সেদিনের ডাক্তার কিনা আমায় ইসলাম দেখায়। আমি তখন রাগারাগি করিয়া ডাক্তারকে বললুম, ইহা কি ইরান পাইছ যে ডাক্তার হইয়া পরস্ত্রীর হাত সিলাইবা না? ইউনাইটেডের ডাক্তার তখন একটি সুই ও এক পেকেট সুতা আমার হাতে দিয়া বলিল, লাইনে আসুন।


ইউনাইটেড হইতে সাবধান: ফারুকী

অশ্রু মুছে ফারুকী বলেন, অতঃপর আমি নিজেই তিশা বেগমের হাত সিলাই করিয়া তাহাকে বাসায় ফিরত লইয়া আসলাম। বাকি পিয়াজগুলুও আমি নিজেই কাটলাম। এরুপ ঘটবে আগে জানলে বিবাহ করতাম না। পরিচালক হইবার পর কত জায়গায় কত শুটিঙ্গে গিয়া কেমেরামেনকে চক্ষু রাংগাইয়া বলছি ‘কাট’, ‘কাট’, আর সেই আমায় কিনা ঘরে পিয়াজ কাটিতে হইল।

রাগে ফেটে পড়ে ফারুকী পরিচালক বলেন, কিন্তু তিশা বেগমের হাতের কাটা আর শুকাইল না। বিশ দিন পরে উহাকে লইয়া আবার ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলাম। এই বিশদিন পিয়াজ কাটিতে কাটিতে চক্ষু বরবাদ হইয়া গেল। ইউনাইটেডের হারামজাদা ডাক্তার আমার পত্নীর হাত দেখিয়া আমায় বলল, আরে সালা ঘোচু উহা কি পাইজামার ফাটল পাইছ যে এরুপ বিশ্রী সিলাই দিলা? যাও এখন এই সিলাই কাটিয়া সারজারীর প্রস্তুতি লও, হাত সাবান দিয়া ধুইয়া আস। আমি আসমান হইতে পড়িয়া তাহাকে বললাম, সারজারীও আমায় করতে হবে? ডাক্তার আমায় ধমক দিয়া বলল, পত্নী তুমার, আর সারজারী কি মহল্লার বাসিন্দারা আসিয়া করবে নাকি সালা ঘোচু? তুমি ত দেখি ইসলামের কিছুই জান না। হস্ত রুগী পত্নী তুমার, তুমারেই এখন নিজের হাতে আইন তুলিয়া লইতে হবে।

কাদতে কাদতে ফারুকী বলেন, আমি তখন ডাক্তারকে বললাম, সারজারী কেমনে করে জানি না ত। সে আমায় হাসতে হাসতে বলল, পিয়াজ কাটতে পার? আমি বললাম, কিছুদিন কাটছি। ডাক্তার বলল, কয়দিন কাটছ? আমি বললাম, একুশ দিন। সে তখন আমার পিঠ চাপড়াইয়া বলল, সাবাশ বেটা। উহাই সারজারী। এখন পত্নীর হাত সাইজ কর, পরে আসিয়া আমাদের হাসপাতালে সারজন হিসাবে যুগ দিও।

রিয়াজ রহমানকে সাবধান করে দিয়ে বাংলার ধাওয়ান বলেন, আপনার পক্ষে বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামীর বিএনপি শাখার মহিলা আমীর ও জাতীয়তাবাদী শক্তির মালিক আপোষহীন দেশনেত্রী মাদারে গনতন্ত্র বেগম খালেদা জিয়া জেএসসির সংগে তর্কাতর্কি করা ঠিক হয় নাই। গুলশানের নেয় বিপদজনক এলাকায় দেহরক্ষী ছাড়া রাত্র কালে ঘুরাঘুরি করতে যাওয়াও আপনার উচিত হয় নাই। আপন দলের মুজাহিদদের গুলিতে পুটুতে ঘা বানাইছেন, বানাইছেন। কিন্তু ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হইছেন কুন দুঃখে? আপনার উচিত ছিল সিংগাপুরে যাওয়া।

ইউনাইটেড হাসপাতালে সারজন হিসাবে যোগদানের সংবাদ জানিয়ে হাসতে হাসতে ফারুকী বলেন, চলচিত্র পরিচালকের সংগে সারজনের কামের খুব বেশী পার্থক্য নাই। অপারেশনের সময় ‘কাট’ বললে বাকি কাম আরদালীরা করিয়া ফেলে। কিন্তু নাম ফাটে আমার।

সামনে রিয়াজ রহমানের পুটুতে সারজারীর তারিখ নির্দেশ করে ফারুকী বলেন, তিশার হাত আজও বেন্ডেজের ভিতরে বন্দী। ঘরে পিয়াজ কাটতে কাটতে পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া রে সেই দুঃখে চুখের পানি। রিয়াজের অপারেশনও আমায় করতে হইবে। পিয়াজ কাটতে কাটতে যে দক্ষতা হাছিল করছি, উহা দিয়া এখন আমি রিয়াজও কাটতে পারব। তাই রিয়াজ নায়েবের পুটুর ঘা আর কুনদিন শুকাইবে না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: