Archive for ‘মতিসম্পাদকীয়’

August 4, 2014

মতিকণ্ঠের ফেসবুক ফেনরা জানেন কি: মতিচুর

মতিচুর রহমান

বিজ্ঞান আমাদিগকে দিয়াছে বেগ, আর কাড়িয়া লইছে আবেগ। বিজ্ঞানের চাপে আমরা অনেক গুরুত্ব পুর্ন কাজ ঠিকমত করতে পারি না। আমরা ভাবি, সুইচ টিপ দিলেই বাত্তি জ্বলবে, ফেন ঘুরবে। কল ঘুরাইলেই পানি পড়বে। কিন্তু বিজ্ঞান সব সময় ঠিকমত কাজ করে না। তখন একটি সুইচ টিপ দিয়া বসিয়া থাকলেই চলবে না। সংগে আরও সুইচ টিপ দিতে হবে।

একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের সর্বাপেক্ষা বড় অর্জন ফেসবুক। ফেসবুক আমাদের দিছে আবেগ, কিন্তু কাড়িয়া লইছে বেগ। ফেসবুকে লাইক টিপ দিয়া আমরা ভাবি, মতিকণ্ঠের সংবাদ আপনা হইতেই আমাদের নিকট চলিয়া আসিবে। কিন্তু সকলের জন্য বিজ্ঞান সমান নহে। আল্লামা রাজ আল্লামা শফীর জন্য বিজ্ঞানের যে সুত্র খাটে, বিতর্ক রাজ আল্লামা তুষারের জন্য বিজ্ঞানের সে একই সুত্র যে সর্বদা ১১০% নিশ্চয়তা দিয়া খাটিবে, তাহার কুন গেরান্টি নাই। এখানেই বিজ্ঞান এখনও পিছাইয়া আছে।

মতিকণ্ঠের পাঠক ভাইবনেরা শুদু মতিকণ্ঠ পেজে লাইক টিপ দিয়া নিশ্চিন্ত থাকবেন না। লাইকের নিচে Get Notifications লিখাটিতে মাউস টিপ দিয়া টিক চিহ্ন দিন। এই টিক চিহ্ন না দেওয়ার কারনে লক্ষ লক্ষ মতিকণ্ঠ পাঠক ভাইবনের কাছে মতি সংবাদ সময় মত পৌছায় না। বাংলার ঘরে ঘরে তাই কান্না, হাহাকার। গনতন্ত্র আজ বিপন্ন।


এই ছবি মতাবেক কাজ করুন

মনে রাখবেন, সারাদিন কাজের পরে একমাত্র মতিকণ্ঠই ১১০% সত্য সংবাদ পরিবেশন করিয়া আমাদিগের মুখে হাসি ফুটায়। পুনম পাণ্ডে ও সানি লিওনি বেবহারে আনন্দ লাভের যুগ অনেক আগেই শেষ। এখন বাম হাতে মাউস তুলিয়া নেওয়ার যুগ। বুদ্ধিমান হউন, সঠিক কাজটি করুন, সঠিক মাউসটি তুলিয়া লউন, সঠিক জায়গায় টিপ দিন।

April 17, 2012

নির্বাচন করুন ২০১১-২০১২ মতিবর্ষের সেরা মতিবেক্তিত্ব

সম্পাদকীয় কলাম
মতিচুর রহমান

বন্ধুগন। আপনাদের দুয়ায় মতিকণ্ঠ গত ১০ বছর ধরে বাংলার ১১০% সত্য খবরের বাজারে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। আপনাদের জানাই মোবারকবাদ।

২০১১-২০১২ মতিবর্ষের সেরা মতিবেক্তিত্ব নির্বাচনের দায়িত্বও তাই আপনাদের উপর। এই মতিবর্ষে যার আচার আচরন, কথা বার্তা, কাণ্ড কারখানা, কীর্তি কলাপ আপনাদের মনে গভীর রেখা পাত করেছে, তার নাম নির্বাচন করে অশেষ নেকী হাছিল করুন।

আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লে জাম্বিউ।

কারওয়ানবাজার, ঢাকা

November 24, 2011

মেডাম, মতিকণ্ঠের পেটে লাথি মারবেন না

মতিচুর রহমান

ধামরাইয়ের হার্ডিঞ্জ মাঠে বিরোধী দলীয় নেতৃ বেগম খালেদা জিয়া গত পরশু দিন যা বলেছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত আশংকিত। দেশ, জাতি ও মতিকণ্ঠের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা মেডাম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করি, তিনি যেন আগামী বক্তৃতার স্কৃপ্ট অন্য কোন লেখককে দিয়ে রচনা করান।

মেডাম, আপনি বলেছেন,

তারা শেয়ার বাজার থেকে ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর প্রায় এক লাখ কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এই টাকা তারা দেশে রাখেনি, পাচার করে দিয়েছে। টাকা কোথায় পাচার করা হয়েছে তা আমরা ‍জানি। তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে আছে। এদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে গরীব মানুষের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

মেডাম, আপনি জানেন, মতিকণ্ঠ বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মতিকণ্ঠে পরিবেশিত ১১০% সত্য খবর এখন প্রতিদিন বাংলাদেশসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতে নাগরিকের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সংবাদের উৎসে পরিনত হয়েছে। আলু কালু ফালু পত্রিকার পরিবর্তে সকলেই এখন মতিকণ্ঠ পড়ে।

মেডাম, আপনি বলেছেন,

তারেক রহমান কম্পিউটারে সব কিছু ধারণ করেছিলেন। দেশে কতো পুকুর, কতো গরু-ছাগল-হাস-মুরগি রয়েছে সবই তিনি তুলেছিলেন কম্পিউটারে। তার এ উদ্যোগ দেশের মানুষ সুন্দরভাবে গ্রহণ করেছিলো। মানুষ তাকে ভালোবেসেছিলো। তাই যেসব বিদেশি শক্তি বাংলাদেশকে তাদের অধিনস্ত করে রাখতে চায় তারাই তারেকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। তাকে দেশ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

মেডাম, আপনি জানেন, মতিকণ্ঠের মত ১১০% সত্য সংবাদ অন্য কোন পত্রিকা সরবরাহ করতে পারে না। এখানেই মতিকণ্ঠের শক্তি, এখানেই মতিকণ্ঠের বল।

কিন্তু আপনিও যদি ১১০% সত্য কথা বলা শুরু করেন, তাহলে মতিকণ্ঠ পথে বসবে। কারন আপনার পারফরমেন্স দেখে আমরা আশংকা করছি, আপনার সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা পারব না।

তাই মেডাম, আপনি মতিকণ্ঠের সুনাম ও এর সাথে জড়িত ৪৫০ জন সংবাদকর্মীর পরিবারের কথা ভেবে আল্লাহর ওয়স্তে আপনার বক্তৃতার লেখক পাল্টান। তাকে আমরা মতিকণ্ঠে চাকরি দিব। তাকে চান্দা তুলে খাওয়াব। আমি নিজে কারওয়ানবাজার থেকে মুরগি চাল ডাল তেল কিনে তার বাসায় দিয়ে আসব। কিন্তু মেডাম, আপনি মতিকণ্ঠকে বাচান।

March 19, 2011

আমার বনে কদম ফুটে ওঠে

আমিষুল হক | তারিখ: ১৯-০৩-২০১১

শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে যেন নেমে এসেছে বিষাদের অদৃশ্য বৃষ্টি। আমার মুঠোফোনে একের পর এক মিসকল আর ক্ষুদে বার্তা। আমাদের পোষা কবি নির্মলেন্দু গুণিনহো স্টেডিয়ামের টিকেট পাননি। ভোরবেলা আমাকে ফোন করে কাতর গলায় অনুরোধ করেছেন, “আমিষুল, তোমার কাছে বাড়তি টিকেট হবে?” আমার কাছে বাড়তি টিকেট ছিল না। বাংলাদেশের প্রতিটি খেলার টিকেটই বিসিবি থেকে চাপ দিয়ে সংগ্রহ করে রেখেছিলাম, যাতে ছোটলোকের মতো ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে গুঁতোগুঁতি করতে না হয়, কিন্তু বাড়তি টিকেট তো ছিল না, তাই কবিকে নিরাশ করতে হয়েছিল ভোরে। কবি এসএমএস পাঠিয়ে বলেছেন, “টিকেট না পেয়ে ভালই হয়েছে। খামাখা রোদে পুটু পোড়াতে হল না।”

কিন্তু রোদ কোথায়? যেদিকে তাকাই অসংখ্য মুখে বিষাদের মেঘ। যেন ভারত মহাসাগর থেকে মনসুনকে তাড়িয়ে বাংলাদেশে এনে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা। এই অসময়ে, চৈত্র মাসে। টি এস এলিয়ট লিখেছিলেন, এপ্রিল হচ্ছে নিষ্ঠুরতম মাস। কিন্তু আমার জন্য নিষ্ঠুরতম মাস এই মার্চ। বাংলাদেশ পারল না কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে। ছিটকে পড়ল টুর্নামেন্ট থেকে। সেইসাথে পত্রিকায় আমার ক্রিকেটবাজিও শেষ হতে চলল।

উটপোঁদ শুভ্র অবশ্য খুশি। সে তার সবকটি হলুদ দাঁত বের করে আমাকে বলল, “দোস্তো আমিষুল, আশরাফুলের আশার ফুল মনে হয় আবার ফুটল!”

সত্যিই তো। সাকিব পারেন নি। সেই সাকিব। দ্বিতীয় আলোতে যিনি নিয়মিত কলাম লিখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যাকে গাছে তুলে আমরা তলারটা খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ, সাকিব আল হাসান পারলেন না আমাদের স্বপ্নের সোনার তরীটিকে আর একটা ম্যাচ সামনে ঠেলে নিতে। তবুও তিনি চেষ্টা করেছিলেন। চারটি দর্শনীয় চারের মারে ৩০টি রান করে দলকে অসম্মানজনক ৫৮ রানের পরাজয় থেকে অন্তত বাঁচিয়েছেন। কিন্তু বাকিরা কিছুই পারেননি।

খেলোয়াড়দের বিষণ্ণ মুখগুলো দেখে বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠল। চারদিকে দর্শকের নীরব অশ্রুপাত। মনে মনে সবাই গালি দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের, আমি জানি। কিন্তু এই মুহূর্তে তাদের প্রয়োজন সান্ত্বনা। দূরে থেকে ঢিল মারা, গালি দেয়া চলবে না। বুকে টেনে নিতে হবে আমাদের ছেলেদের। যেভাবে আমি বুকে টেনে নিয়েছিলাম মুসাকে।

এভারেস্টজয়ী মুসাকে জড়িয়ে ধরলেন আনিসুল হক

খেলা শেষে তাই চেষ্টা করলাম সাজঘরে গিয়ে খেলোয়াড়দের বুকে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু ওরা রাজি হল না। অস্বস্তিভরে ফিরিয়ে দিল আমাকে। কেবল আশরাফুল আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এল। কিন্তু আশরাফুলকে জড়িয়ে ধরলে উটপোঁদ রাগ করতে পারে, তাই পিছিয়ে এলাম।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এখন বাংলাদেশকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হবার উপায় আর রইল না। আমরা জানতাম, এমনটি ঘটতে পারে। তাই পাকিস্তানকে ব্যাক আপ হিসেবে রেখেছে উটপোঁদ। চেয়েছিলাম সাকিবকে গাছে তুলতে, সে পারল না। আমাদের মুসা এভারেস্ট জয় করেছে, কিন্তু সাকিব পারল না। এখন আফ্রিদিই ভরসা।

কিন্তু কেঁদ না আমাদের ছেলেরা। তোমাদের ওপর যেদিন বিষাদের শ্রাবণ ধারা ঝরে, সেদিন আমাদের বনেও যে কদম ফুটে ওঠে।

যাই, বাড়ি গিয়ে ফুটে ওঠা কদমটাকে কাজে লাগাই। ফারুকী মিসকল দিচ্ছে সমানে, মনে হয় পার্টি-ফার্টি আছে কোথাও। আর আজাদের মা-কে নিয়ে লেখা আমার মা উপন্যাসটি কিনুন, পড়ুন, আর দোআ করুন যাতে আগামী বছর একুশে পদকটা পাই।

%d bloggers like this: